সই জাল মামলা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ বহাল, তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ হাই কোর্টের

সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ ১৭ জুলাই পর্যন্ত বাড়াল কলকাতা হাই কোর্ট। তবে সিআইডি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ বহাল রাখল আদালত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এ আপাতত স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে ১৭ জুলাই পর্যন্ত বহাল রাখল আদালত। তবে একইসঙ্গে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ (Justice Subhra Ghosh) স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্ত আগের মতোই কার্যকর থাকবে।

শুক্রবার মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনওরকম বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। ফলে রক্ষাকবচ বহাল থাকলেও তদন্তকারী সংস্থার ডাকে প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত গ্রেফতার বা কড়া আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কা থেকে স্বস্তি মিললেও তদন্তের মুখোমুখি হওয়া এড়ানোর সুযোগ নেই।

এই মামলার সূত্রপাত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ও অন্যান্য পরিষদীয় পদে মনোনয়ন সংক্রান্ত একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, তৃণমূলের তরফে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই তদন্তভার রাজ্য সরকার তুলে দেয় সিআইডি (CID)-র হাতে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তদন্তের স্বার্থে সিআইডি ইতিমধ্যেই কালীঘাটে (Kalighat) তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ির লাগোয়া দলীয় কার্যালয়ে যায়। পরে গত ৩০ মে তদন্তকারীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনেও পৌঁছন। এরপর তাঁকে ভবানী ভবনে (Bhawani Bhavan) হাজিরা দেওয়ার নোটিস পাঠানো হলেও নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত হননি। তদন্তকারী সংস্থার কাছে সময় চেয়ে পরে তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন এবং অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও তদন্তে সহযোগিতার শর্ত আরোপ করে।

কী এই সই জালিয়াতি বিতর্ক?

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ৬ মে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে জয়ী বিধায়কদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে পরিষদীয় দলের নেতা, উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতক নির্বাচন করার দায়িত্ব দলনেত্রীর উপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবে বিধায়কেরা সম্মতি দেন বলে দাবি করা হয়। পরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিধানসভায় একটি চিঠি পাঠানো হয়, যাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল।

কিন্তু বিধানসভার তরফে সেই চিঠি গ্রহণ করা হয়নি। পরিষদীয় নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদাধিকারীদের নির্বাচন পরিষদীয় দলের বৈঠকেই হতে হয় বলে জানানো হয়। এরপর ১৯ মে ফের বৈঠক ডেকে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযোগ, ওই স্বাক্ষরগুলি ৬ মে-র কার্যবিবরণীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেন, তাঁদের এমন নথিতে সই করানো হয়েছে যা ৬ মে-র বৈঠকের রেকর্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগ থেকেই সই জালিয়াতি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত এবং বর্তমানে সেই ঘটনাই সিআইডি তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু। আপাতত ১৭ জুলাই পর্যন্ত অভিষেকের আইনি সুরক্ষা বহাল থাকলেও মামলার পরবর্তী শুনানি ও তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন