ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দীর্ঘদিন পরাজয় মানতে অস্বীকার করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নির্বাচনের প্রায় দুই মাস পর তাঁর বক্তব্যে এল নতুন সুর। শনিবার ফেসবুক লাইভে তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে বলেন, মানুষের স্বার্থে কাজ হলে তিনি সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত। এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, তিনি পরাজিত হননি এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, এই ফলাফল তিনি মেনে নিচ্ছেন না। রাজনৈতিক মহলে সেই অবস্থান নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল।
শনিবার ফেসবুক লাইভে অবশ্য তাঁর বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন বার্তা উঠে আসে। তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মানুষের জন্য ভালো কাজ করলে আমরা অবশ্যই পাশে থাকব।”
একইসঙ্গে তিনি শুভেন্দুর রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গও টানেন। মমতার বক্তব্য, শুভেন্দু একসময় তৃণমূল কংগ্রেস-এর গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং তারও আগে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে শুভেন্দু একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন এবং বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন।
ফেসবুক লাইভে বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের প্রসঙ্গও তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যাঁরা আপনার সঙ্গে গিয়েছেন, তাঁরা যদি সঠিক হন, তবে যাঁরা যাননি তাঁদের বিরুদ্ধে কেন বিভিন্ন তদন্ত? মনে রাখতে হবে, প্রতিটি কাজেরই প্রতিক্রিয়া থাকে।” তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিবর্তন এবং একাধিক নেতার দলত্যাগের আবহে মমতার এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে। যদিও তিনি এখনও নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আগের অভিযোগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে এসেছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে রাজ্যের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।






