অযোধ্যার (Ayodhya) রামমন্দির (Ram Mandir)-এর প্রণামী চুরি মামলায় তদন্তে বড় অগ্রগতির দাবি পুলিশের। প্রায় ৪৫ দিনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আট ধৃতের মধ্যে পাঁচ জনকে সরাসরি দানবাক্সের টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী সরাতে দেখা গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এদিকে প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই (Champat Rai)-এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও তাঁকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য (Keshav Prasad Maurya)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে অভিযুক্তদের গতিবিধি। তদন্তকারীদের দাবি, অন্তত পাঁচ জনকে বিভিন্ন সময়ে ভক্তদের প্রণামীর নগদ অর্থ এবং মূল্যবান অলঙ্কার ও রত্ন সরাতে দেখা গিয়েছে। এই ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে যে আউটসোর্সিং সংস্থার মাধ্যমে প্রণামী গণনার কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তারা দায় এড়িয়ে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নাম তারা বাছাই করেনি। তাদের দাবি, স্থানীয় স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (State Bank of India) শাখার কয়েকজনের সুপারিশেই ওই ব্যক্তিদের নিয়োগ হয়েছিল। যদিও তদন্তকারী দলের একটি সূত্রের দাবি, প্রায় তিন মাস আগেই এসবিআই প্রণামী গণনার কাজে অনিয়মের আশঙ্কা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বদলের সুপারিশ করেছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, গত দু’বছরে রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। তদন্তে মন্দিরের কিছু সেবাদার এবং ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর (Shri Ram Janmabhoomi Teerth Kshetra Trust) কয়েকজন সদস্য বা পদাধিকারীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত ২৫ জুন আট জন গ্রেফতার হওয়ার পরই ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত রাই। পাশাপাশি ট্রাস্টি অনিল মিশ্র (Anil Mishra)-ও পদত্যাগ করেন।
বৃহস্পতিবার অযোধ্যার রাম জন্মভূমি থানায় স্থানীয় কয়েকজন আইনজীবী চম্পত রাইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ, প্রণামী চুরির ঘটনায় তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এই অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য। তাঁর বক্তব্য, রামমন্দির নির্মাণে যাঁরা দীর্ঘদিন পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করার কোনও প্রয়োজন নেই।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ধৃতদের অন্যতম রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিনু যাদব (Ramshankar Yadav alias Tinu Yadav) একসময় চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক ছিলেন। পরে তিনিই দানবাক্সের দায়িত্ব পান বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনুর ভাইপো মণীশ যাদব (Manish Yadav)-কেও প্রণামী গণনা ও দানবাক্সের নজরদারির কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। মণীশের বাড়ি থেকে চুরি হওয়া টাকার একটি অংশ উদ্ধার হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর।
এদিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) এই ঘটনাকে রামভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত বলে মন্তব্য করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে চম্পত রাইও দাবি করেছেন, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।






