বলিউড অভিনেতা সলমন খান (Salman Khan)-এর মুম্বইয়ের (Mumbai) গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে ২০২৪ সালের গুলিবর্ষণ মামলায় নতুন মোড়। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আনমোল বিষ্ণোই (Anmol Bishnoi) বিশেষ এমসিওসিএ (MCOCA) আদালতের কাছে আত্মসমর্পণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতেই তিনি এই পদক্ষেপ করতে চান বলে আদালতে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল সকালে সলমন খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, এই হামলার নেপথ্যে ছিল লরেন্স বিষ্ণোই (Lawrence Bishnoi) গ্যাং। অভিযোগ, বিদেশে বসেই গোটা হামলার ছক কষা হয়েছিল এবং সেই পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল লরেন্সের ভাই আনমোল বিষ্ণোইয়ের।
ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে আনমোলের নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল, “এ তো শুধু ট্রেলার ছিল।” এরপর থেকেই তদন্তে আনমোলের ভূমিকা নিয়ে নজরদারি বাড়ায় তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
এবার মুম্বইয়ের বিশেষ এমসিওসিএ আদালতে দাখিল করা আবেদনে আনমোল জানিয়েছেন, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চান। তাঁর দাবি, ন্যায্য বিচারের স্বার্থে আদালতের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ নথিভুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
বর্তমানে আনমোল বিষ্ণোই তিহার জেল (Tihar Jail)-এ বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (National Investigation Agency – NIA)-র সন্ত্রাসবাদ ও গ্যাংস্টার চক্রের যোগসাজশ সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ফলে মুম্বই আদালতে সরাসরি হাজির হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
এই পরিস্থিতিতে তাঁর আইনজীবী আদালতের কাছে তিহার জেল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে একটি প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করেছেন। পাশাপাশি, প্রয়োজন হলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত থাকার অনুমতিও চেয়েছেন আনমোল।
উল্লেখ্য, সলমন খানের বাড়ির বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অব অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট (MCOCA)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে আনমোল বিষ্ণোইকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। দেশে ফেরার পর এনআইএ তাঁকে গ্যাংস্টার-সন্ত্রাসবাদ যোগসাজশ মামলায় গ্রেপ্তার করে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর, কারণ এই আত্মসমর্পণের আবেদন মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।






