হানিমুনে স্বামীকে খুন, তবুও সোনম রঘুবংশীর জামিন সুপ্রিম কোর্টে! কেন মিলল স্বস্তি?

মেঘালয়ের বহুল আলোচিত হানিমুন খুন মামলায় অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশীর জামিন বাতিলের আবেদন খারিজ করল না সুপ্রিম কোর্ট। তদন্তের অগ্রগতির উপর নজর রাখার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সোনম রঘুবংশী জামিন মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। মেঘালয়ের বহুল আলোচিত হানিমুন খুন মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী (Sonam Raghuvanshi)-র জামিন বাতিলের আবেদন করেছিল মেঘালয় সরকার (Meghalaya Government)। কিন্তু শুক্রবার শীর্ষ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়নি। বরং আপাতত তাঁর জামিন বহাল রেখেই তদন্তের অগ্রগতির উপর নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত।

গত বছর দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল এই হানিমুন হত্যাকাণ্ড। বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমা কাটাতে মেঘালয় (Meghalaya)-এ গিয়েছিলেন রাজা রঘুবংশী (Raja Raghuvanshi) এবং তাঁর স্ত্রী সোনম রঘুবংশী (Sonam Raghuvanshi)। কয়েকদিন পর দু’জনই নিখোঁজ হয়ে যান। পরে চেরাপুঞ্জি (Cherrapunji)-র একটি জলপ্রপাতের ধারে রাজার দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর (Ghazipur) থেকে সোনমকে গ্রেপ্তার করে। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁর কথিত প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা (Raj Kushwaha) এবং আরও কয়েকজন অভিযুক্তকে।

তদন্তে মেঘালয় পুলিশ (Meghalaya Police) দাবি করে, মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার আগেই সোনম নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র একটি ট্রলিব্যাগে ভরে রাজ কুশওয়াহার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনাই ইঙ্গিত দেয় যে স্বামীকে খুন করার পর নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা আগেই করে রেখেছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই কয়েকজন সহযোগীকে আগে থেকেই মেঘালয়ে পাঠানো হয়েছিল।

এই মামলায় গত ডিসেম্বরে প্রায় ৭০০ পাতার চার্জশিট আদালতে জমা দেয় মেঘালয় পুলিশ (Meghalaya Police)। সেখানে গোটা ষড়যন্ত্রের বিবরণ তুলে ধরা হয় বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘদিন শিলং (Shillong)-এর জেলে বন্দি ছিলেন সোনম। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শিলং আদালত (Shillong Court) তাঁকে জামিন দেয়। পরে সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে মেঘালয় হাই কোর্ট (Meghalaya High Court)। এরপর জামিন বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-এর দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার।

শুক্রবার মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানায়, সোনম ইতিমধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এই পর্যায়ে তাঁর জামিন বাতিলের প্রয়োজনীয়তা আদালত দেখছে না। তবে তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সোনমকেও নোটিস পাঠানো হবে। আদালতে উঠে আসে, গ্রেপ্তার সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় ত্রুটির অভিযোগও জামিনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

যদিও জামিন বহাল থাকলেও মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। আগামী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি, চার্জশিটের বিভিন্ন দিক এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আরও বিস্তারিত শুনানি হবে। ফলে বহুল আলোচিত এই হানিমুন খুন মামলার উপর এখনও নজর থাকবে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-এর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন