সল্টলেকে (Salt Lake) মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবার কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনে বিভিন্ন জেলার মানুষের ভিড়ের মধ্যে নজর কাড়লেন প্রয়াত শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস (Barun Biswas)-এর পরিবারের সদস্যরা। ২০১২ সালের বহুল আলোচিত খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ১৪ বছরেও পূর্ণ বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র কাছে ন্যায়বিচারের আবেদন জানালেন বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস ও তাঁর দিদি।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ বছরে তদন্তের নামে শুধু সময় নষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি দফতর, ভবানী ভবন (Bhawani Bhavan) থেকে শুরু করে প্রশাসনের একাধিক স্তরে ঘুরেও তাঁরা কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি। এদিন জনতার দরবারে এসে তাঁরা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
অসিত বিশ্বাসের দাবি, ২০১২ সালের ৬ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে তাঁর বাবার সামনেই খুন করা হয়। অভিযোগ, এলাকায় ধর্ষণ এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছিল। পরিবারের আরও অভিযোগ, তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল এবং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
জনতার দরবারে এসে অসিত বিশ্বাস আরও অভিযোগ করেন, মামলার আইনজীবীকেও নানাভাবে চাপের মুখে রাখা হয়েছিল, যার ফলে মামলার সুষ্ঠু লড়াই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর কথায়, গত ১৪ বছরে তাঁরা শুধু আইনি লড়াই নয়, নানা ধরনের হুমকি ও চাপেরও মুখোমুখি হয়েছেন।
অসিত বিশ্বাস বলেন, “আমাদের যিনি আইনজীবী ছিলেন, তাঁকেও এমনভাবে চাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল যে তিনি স্বাধীনভাবে মামলা পরিচালনা করতে পারেননি। গত ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কষ্টের। আমার ভাই মৃত্যুর আগে এক গ্লাস জল চেয়েছিল, সেটুকুও তাকে দেওয়া হয়নি।” তাঁর এই মন্তব্যে গোটা ঘটনার মানবিক দিকটি আরও একবার সামনে এসেছে।






