উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) আগ্রায় (Agra) সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। প্রায় ৪৫ দিন ধরে নিখোঁজ বলে দাবি করা এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়েছে তাঁর নিজের বাড়ির বাথরুমের মেঝের নীচ থেকে। নিহত সুরেন্দ্র কুমার শর্মা (Surendra Kumar Sharma)-কে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী রুবি শর্মা (Ruby Sharma)-কে। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও নির্যাতনের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ মে থেকে সুরেন্দ্র কুমার শর্মা নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের কাছে রুবি শর্মা দাবি করেছিলেন, তাঁর স্বামী কোথাও বেড়াতে গিয়েছেন এবং শীঘ্রই ফিরে আসবেন। পরে তিনি নিজেই থানায় স্বামীর নিখোঁজ ডায়েরিও করেন। তদন্ত চলাকালীন বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে পুলিশকে স্বামীকে খুঁজে দেওয়ার আবেদনও করেছিলেন।
তবে তদন্ত যত এগোয়, রুবি শর্মার বক্তব্যে একের পর এক অসঙ্গতি ধরা পড়তে থাকে। পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন বাড়ির বাথরুমে সম্প্রতি নতুন টাইলস বসানোর বিষয়টি নজরে আসে। এরপর বাথরুমের মেঝে খুঁড়তেই উদ্ধার হয় সুরেন্দ্রর পচাগলা দেহ।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় রুবি শর্মা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর দেহ বাথরুমের মেঝের নীচে পুঁতে রেখে উপরে নতুন করে টাইলস বসিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সুরেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন এবং মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন। অভিযোগ, প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে স্ত্রীর উপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। সংসারের খরচও মূলত সুরেন্দ্রর মায়ের পেনশনের উপর নির্ভর করত বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, বহু বছরের পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক সংকট এবং গার্হস্থ্য নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা নির্ধারিত হবে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম আরও স্পষ্ট হবে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ৪৫ দিনের নিখোঁজ নাটক, অন্যদিকে বাড়ির বাথরুমের মেঝের নীচে দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আগ্রার বাসিন্দারাও স্তম্ভিত। পুলিশ পুরো ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত এখনও চলছে।






