দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)-কে ঘিরে তদন্তে সামনে এল আরও একটি গুরুতর অভিযোগ। খুন ও তোলাবাজির অভিযোগের পর এবার দাবি উঠেছে, তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা একটি জগন্নাথ মন্দিরের দানপাত্র থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সি (Aditi Munshi)-র স্বামীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন বাগুইআটির এক প্রবীণ বাসিন্দা। তদন্তকারীরা অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছেন।
বাগুইআটির (Baguiati) বাসিন্দা ৮৬ বছরের দেবকুমার দাশগুপ্ত (Debkumar Dasgupta) জানান, বহু মানুষের সহযোগিতায় তিনি একটি জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে মন্দিরকে কেন্দ্র করে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের আনাগোনা শুরু হয়। এরপর নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, কখনও ৫ লক্ষ, কখনও ৮ লক্ষ টাকা করে তোলাবাজি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মন্দিরের দানপাত্র থেকেও অর্থ লুট করা হয় বলে দাবি করেছেন প্রবীণ ওই ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগ, সব মিলিয়ে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা বেআইনিভাবে আদায় করা হয়েছিল।
এই আর্থিক চাপের জেরে ২০২৩ সালে নিজের প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ মন্দির মাত্র ৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন বলে দাবি করেছেন দেবকুমার দাশগুপ্ত (Debkumar Dasgupta)। বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)-র আর্থিক লেনদেন নিয়েও তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য অর্থের হদিস না মিললেও, ভোটের আগে গত মে মাসে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। ওই অর্থের উৎস এবং ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
বর্তমানে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে তাঁকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন, সম্ভাব্য কালো টাকার উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, এই আর্থিক অনিয়মে শুধুমাত্র দেবরাজ চক্রবর্তী নন, আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ থাকতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত তদন্ত চলমান এবং কোনও অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত এগোলে এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।






