কেন্দ্রে তৃতীয় মোদি সরকারের দুই বছর পূর্তির পরই উপপ্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে জোর রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলের আবহে একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ ২২ বছর পর দেশে ফের উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। আলোচনায় উঠে এসেছে অমিত শাহ (Amit Shah) এবং নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)-এর নাম, যদিও সরকার বা বিজেপির তরফে এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
তৃতীয় মোদি সরকারের মেয়াদের দু’বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে। বিজেপির অতীতের রাজনৈতিক রীতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সাধারণত সরকার গঠনের প্রায় দুই বছর পর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনেন। একইসঙ্গে বিজেপির নতুন সভাপতি নীতীন নবীনের দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাস পরেও দলের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক টিম ঘোষণা না হওয়ায়, সংগঠন এবং সরকার—দুই ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
দলীয় সূত্রের দাবি, এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে সংগঠনে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, আবার সংগঠন থেকে নতুন কয়েকজন সাংসদকে মন্ত্রীসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি কয়েকজন প্রবীণ মন্ত্রীকে বিশ্রামও দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, অন্তত সাত থেকে আটজন নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় সুযোগ পেতে পারেন।
তবে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য পরিবর্তনের থেকেও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে উপপ্রধানমন্ত্রী পদ। যদিও এই পদ সংবিধান স্বীকৃত নয়, তবুও জোট রাজনীতি কিংবা দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে অতীতে একাধিকবার এই পদে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সাতজন উপপ্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ এই পদে ছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী (Lal Krishna Advani)। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee)-র মন্ত্রিসভায় উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপর মনমোহন সিং (Manmohan Singh)-এর দশ বছরের সরকার এবং নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র টানা ১২ বছরের শাসনকালেও এই পদে কাউকে নিয়োগ করা হয়নি।
বর্তমান জল্পনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-র নাম। বিজেপির সংগঠন ও কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তাঁকে উপপ্রধানমন্ত্রী করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। পাশাপাশি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সদস্য। তাঁর দল জনতা দল (ইউনাইটেড) (Janata Dal (United))-এর নেতারা প্রকাশ্যেই তাঁকে উপপ্রধানমন্ত্রী করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির কোনও শীর্ষ নেতা উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। ফলে বিষয়টি এখনই নিশ্চিত নয়। তবুও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল এবং জোট রাজনীতির সমীকরণকে ঘিরে উপপ্রধানমন্ত্রী পদে নতুন নিয়োগের জল্পনা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।






