কলকাতার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষের বিরুদ্ধে জমি দখল ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই FIR দায়ের হয়েছে। জমি দখল, ভয় দেখানো, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকার বাইপাস সংলগ্ন একটি আড়াই কাঠা জমির উপর নির্মিত তিনতলা বাংলো বাড়ি প্রায় ৯ বছর ধরে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, তাঁর বাবা জীবিত অবস্থায় উইল করে সম্পত্তিটি তাঁর নামে দিয়ে গিয়েছিলেন। পরে অতীন ঘোষের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই সম্পত্তি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, এরপর নানা চাপ ও ভয় দেখিয়ে তাঁকে নথিতে সই করানো হয়।
তাঁর অভিযোগ, “অতীন ঘোষ, তাঁর মেয়ে এবং কয়েকজন সহযোগী বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করেন। সম্পত্তি না দিলেও তা নেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। জোর করে কিছু নথিতে সই করিয়ে নেওয়া হয় এবং সেই নথিগুলি আর কখনও ফেরত দেওয়া হয়নি।”
অভিযোগকারিণী আরও দাবি করেছেন, সম্পত্তি কেনার নামে ৫০ লক্ষ টাকা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জোর করে পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি সেই টাকা সুদ-সহ ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু টাকা গ্রহণ না করে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে ‘ফ্রডুলেন্ট অ্যাক্টিভিটি’ দেখিয়ে ব্লক করিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অতীন ঘোষের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী ঘোষ। তাঁর দাবি, সম্পত্তি সংক্রান্ত লেনদেন সম্পূর্ণ আইন মেনেই হয়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির উইলের প্রবেট এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, ফলে মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে।
প্রিয়দর্শিনীর বক্তব্য, “আমরা সম্পত্তি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করেছি। কিন্তু টাইটেল সংক্রান্ত জটিলতা এখনও মেটেনি। প্রবেট সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা বারবার সেই বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্পত্তি নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে এবং অভিযোগকারীর পরিবার ভুয়ো নথি ব্যবহার করে বিভিন্ন সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তাঁর বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কেউ কখনও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি। এই ঘটনায় মানহানির মামলা করার কথাও জানিয়েছেন প্রিয়দর্শিনী।
এদিকে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “অভিযোগ দায়ের হয়েছে মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যায় না। তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে।”
বর্তমানে গোটা বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের মাঝে সম্পত্তি-বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী দিক।



