‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’— রাজ্যের নতুন আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ঘিরে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সকলকেই পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, লক্ষ্মীর ভান্ডারের তালিকায় বিপুল সংখ্যক ‘বেনোজল’ ঢুকে পড়েছে, সেই কারণেই নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের পথে হাঁটছে সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এবং আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলারাই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন। তবে আয়করদাতা, সরকারি বা সরকার-পোষিত চাকরিজীবী, নিয়মিত বেতন বা পেনশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না।


শুভেন্দুর কথায়, “লক্ষ্মীর ভান্ডারের তালিকা পুরোপুরি যাচাই করা ছিল বলে আমরা ভেবেছিলাম। কিন্তু পরে বহু অভিযোগ এসেছে। প্রায় ৩০ লক্ষ এমন মানুষ এই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন, যাঁদের ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ গিয়েছে এবং ট্রাইবুনালেও আবেদন করেননি।”
সরকারের লক্ষ্য, নতুন করে তথ্য যাচাই করে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র একটি বিশুদ্ধ তালিকা তৈরি করা। সেই কারণেই প্রত্যেক আবেদনকারীকে নতুন ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কী কী জানাল সরকার
- অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সকলকেই পূরণ করতে হবে
- আগামী তিন মাস ধরে চলবে নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া
- যত দিন অন্নপূর্ণা যোজনা পুরোপুরি চালু না হচ্ছে, তত দিন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ চালু থাকবে
- যাঁরা নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবেন, তাঁদের লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হয়ে যাবে
- ২ জুনের মধ্যে নাম নথিভুক্ত করতে পারলে জুন মাস থেকেই টাকা পাওয়া শুরু হতে পারে
- আয়করদাতা, সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না
- সিএএ-তে নাগরিকত্বের আবেদনকারীরাও প্রকল্পের সুবিধা পাবেন
- এসআইআর-এ নাম বাদ গেলেও যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের আপাতত তালিকায় রাখা হবে
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে পরিবারের বিশদ তথ্য চাওয়া হচ্ছে। সরকারের দাবি, ভবিষ্যতে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে এই তথ্য ব্যবহার করা হবে।


শুভেন্দুর কথায়, “এই কাজের পরিধি অত্যন্ত বড়। মুখ্যসচিব, অর্থসচিব-সহ একাধিক আধিকারিক এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। আধার এবং ভোটার তালিকার কাজে যাঁরা যুক্ত, তাঁরাও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন।”
অনলাইন এবং অফলাইন— দু’ভাবেই ফর্ম জমা দেওয়া যাবে। যাঁরা নিজেরা আবেদন করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্য করবেন সরকারি আধিকারিকেরা। নবনির্বাচিত বিধায়কদেরও এই কাজে যুক্ত করা হচ্ছে।
আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ তারিখ জনকল্যাণ শিবির আয়োজন করা হবে। সেখানে ফর্ম পূরণ এবং তথ্য যাচাইয়ের কাজ হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
এদিকে প্রতি সপ্তাহে কত জন মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনায় নথিভুক্ত হলেন, সেই তথ্য সাংবাদিক বৈঠকে জানাবেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে একদিকে যেমন নতুন আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে তেমনই শুরু হয়েছে বড়সড় তথ্য যাচাই অভিযান। এখন নজর, আগামী তিন মাসে কত দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



