‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’— রাজ্যের নতুন প্রকল্প ঘিরে উৎসাহ বাড়ছে রাজ্যজুড়ে। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হল, এই প্রকল্পে তাড়াহুড়ো করে ফর্ম পূরণ করার প্রয়োজন নেই। ধাপে ধাপে সব যোগ্য মহিলাকেই এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে পরিবারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু করছে প্রশাসন।
মহিলা ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য বিশেষ ফর্ম চালু করা হয়েছে। এই ফর্মে শুধু আবেদনকারীর তথ্য নয়, পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক তথ্যও বিস্তারিতভাবে চাওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতেও এই তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে।


সরকারি সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকে শুরু হয়ে টানা ৯০ দিন চলবে এই নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া। অনলাইন ও অফলাইন— দু’ভাবেই আবেদন করা যাবে।
অন্নপূর্ণা যোজনায় যা যা জানাল সরকার
- একদিনে সকলের ফর্ম ফিলআপ সম্ভব নয়, তাই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই
- তাড়াহুড়ো করতে হবে না, যোগ্য সকলেই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন
- বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা পান
- সরকারের দাবি, বেআইনিভাবে প্রায় ৩০ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন
- অন্নপূর্ণা যোজনা সম্পূর্ণ চালু না হওয়া পর্যন্ত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ চালু থাকবে
- যাঁরা আগামী ২ জুনের মধ্যে ফর্ম পূরণ করবেন, তাঁরা ৩ জুন থেকেই টাকা পেতে পারেন
- অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা চালু হলেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে
- অবৈধ নাগরিক, আয়করদাতা, সরকারি বা সরকার-পোষিত কর্মীরা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না
- বিডিও অফিস, পুরসভা, ওয়ার্ড ও পঞ্চায়েত স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করা হবে
- যাঁরা নিজেরা অনলাইন আবেদন করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য বিশেষ সহায়তা শিবির করা হবে
এছাড়াও সরকার জানিয়েছে, আয়ুষ্মান ভারতের জন্যও রাজ্যে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করার কাজ চলছে। জুলাই মাসের মধ্যে কার্ড দেওয়া শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
সরকারের আশ্বাস, আয়ুষ্মান ভারতের পরিষেবা পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত কেউ ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হবেন না।


১৫, ১৬ ও ১৭ জুন বিভিন্ন এলাকায় জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হবে। সেখানেও অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে।
প্রতি সপ্তাহে কত জন মহিলা এই প্রকল্পে নথিভুক্ত হলেন, সেই তথ্য সাংবাদিক বৈঠক করে প্রকাশ করবেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার একদিকে যেমন আর্থিক সহায়তার নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে, তেমনই বৃহৎ তথ্যভাণ্ডার তৈরির দিকেও জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



