প্রায় দুই দশকের চেনা ক্যালেন্ডারে বড় বদলের ইঙ্গিত। ভবিষ্যতে আর মার্চ–এপ্রিল–মে নয়, বরং বছরের অন্য সময়ে হতে পারে আইপিএল। কারণ হিসেবে উঠে আসছে রেকর্ড গরম, ক্রিকেটারদের উপর বাড়তি শারীরিক চাপ এবং টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য সম্প্রসারণ। এই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল।
বর্তমানে ১০ দলের আইপিএলে মোট ৭৪টি ম্যাচ আয়োজন করা হয়। তবে ২০২৮ সালের পর ম্যাচ সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে শুধু ক্রিকেট নয়— সম্প্রচার, স্পনসর, দর্শক এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা— সব দিক বিবেচনা করেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।


সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে সরতে পারে আইপিএল
বোর্ডের অভ্যন্তরে সেপ্টেম্বর–অক্টোবর উইন্ডো নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অরুণ ধুমাল। এই সময়ের একটি বড় সুবিধা হল— দীপাবলির আগে বিজ্ঞাপন বাজার অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, যা সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক দিক থেকে আইপিএলকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
অরুণ ধুমাল জানিয়েছেন, সম্প্রচার সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে দেখতে হবে আইপিএলকে অন্য সময়ে নিয়ে যাওয়া বাস্তবসম্মত কি না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি তৈরির সময় যদি উপযুক্ত জায়গা পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই সহজ হবে না। আন্তর্জাতিক সিরিজ, বিদেশি ক্রিকেটারদের প্রাপ্যতা এবং বিভিন্ন দেশের বোর্ডের সূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


ম্যাচও বাড়তে পারে ৭৪ থেকে ৯৪
বর্তমানে প্রতিটি দল সাতটি করে হোম এবং সাতটি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলে। তবে ধুমালের মতে, ১০ দলের লিগে সমতা আনতে গেলে ভবিষ্যতে ন’টি করে ঘরের মাঠে এবং ন’টি বাইরে ম্যাচের মডেল বিবেচনা করা যেতে পারে।
বোর্ডের ধারণা, যদি ভবিষ্যতে অতিরিক্ত দু’সপ্তাহ সময় পাওয়া যায়, তাহলে ম্যাচ সংখ্যা ৭৪ থেকে বাড়িয়ে ৯৪ করা সম্ভব।
গরম এখন বড় চ্যালেঞ্জ
মে মাসের তীব্র গরম এখন আইপিএলের অন্যতম বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। একাধিক শহরে উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে ম্যাচ ও অনুশীলন চালাতে গিয়ে ক্লান্তি, শরীরে জলের ঘাটতি এবং পারফরম্যান্সের উপর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
বোর্ডের আশঙ্কা, ম্যাচ সংখ্যা বাড়লে একই আবহাওয়ায় টুর্নামেন্ট পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
প্লে-অফ ফরম্যাটেও সমর্থন
বর্তমান প্লে-অফ কাঠামোতে পয়েন্ট তালিকার প্রথম দুই দল একটি অতিরিক্ত সুযোগ পায়। অর্থাৎ একটি ম্যাচ হারলেও ফাইনালে ওঠার আরেকটি রাস্তা থাকে। ধুমালের মতে, দীর্ঘ লিগ পর্বে ভালো খেলা দলগুলিকে এই সুবিধা দেওয়া যুক্তিযুক্ত।
দর্শক কমেনি, দাবি বোর্ডের
সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্টে টিভি দর্শক কমার দাবি উঠলেও তা মানতে নারাজ বোর্ড। ধুমালের দাবি, সম্প্রচার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দর্শকসংখ্যা বরং বেড়েছে এবং আঞ্চলিক ভাষার সম্প্রচার আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছতে সাহায্য করেছে।
সব মিলিয়ে, এখনই সিদ্ধান্ত নয়— তবে আইপিএলের ভবিষ্যৎ ক্যালেন্ডার নিয়ে যে বড় ভাবনা শুরু হয়েছে, তা স্পষ্ট। ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নতুন সময়সূচির পথে হাঁটে কি না, এখন সেদিকেই নজর।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



