ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরেও জাতীয় দলের দরজা যেন খুলছেই না Mohammed Shami-র জন্য। রঞ্জি ট্রফি থেকে শুরু করে বিজয় হাজারে ট্রফি—প্রতিটি ফরম্যাটেই বাংলার জার্সিতে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন তিনি। তবু নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘোষিত ভারতীয় ওডিআই স্কোয়াডে তাঁর নাম না থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলা শিবির।
শনিবার অসমকে ৮৫ রানে হারিয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে জয়ের ধারা বজায় রাখে বাংলা। কিন্তু সেই জয়ের আনন্দ ঢেকে যায় সামিকে ফের উপেক্ষা করার ঘটনায়। ম্যাচ শেষে প্রকাশ্যেই নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন বাংলার হেড কোচ Laxmiratan Shukla।


‘এর চেয়ে বড় অন্যায় হয় না’
লক্ষ্মীরতন শুক্লা সাফ জানিয়ে দেন, “এর চেয়ে বড় অন্যায় আর কিছু হতে পারে না। সামির সঙ্গে একেবারে বেইমানি করা হয়েছে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধুই আবেগ নয়—পরিসংখ্যান আর মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এই ক্ষোভ।
ফিটনেস ও নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন নেই
শনিবার অসমের বিরুদ্ধে আবারও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন সামি। উইকেট বোলারদের পক্ষে সহায়ক না হলেও, নিজের অভিজ্ঞতা ও নিয়ন্ত্রণে ম্যাচে প্রভাব ফেলেন তিনি। কোচের কথায়, “সামির ফিটনেস নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। অনুশীলনে ও-ই সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করে। আন্তর্জাতিক মানের খুব কম ক্রিকেটারকে এমন নিষ্ঠা দেখাতে দেখা যায়।”
নির্বাচনী নীতির দিকেই প্রশ্ন
লক্ষ্মীরতনের মতে, ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পরেও যদি ডাক না আসে, তবে ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। বিশেষ করে Jasprit Bumrah-র অনুপস্থিতিতে পেস আক্রমণে চাপ বাড়ছে তরুণদের উপর। তবু অভিজ্ঞ সামিকে বাইরে রাখার যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না বাংলা শিবির।


জয় থাকলেও অস্বস্তি কাটছে না
রাজকোটে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতেও বাংলা দলে স্বস্তির বদলে অস্বস্তিই বেশি। কারণ একটাই—সামির উপেক্ষা। ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন ক্রিকেটারকে নয়, বরং ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলার প্রণোদনাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ় সামনে রেখে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক যে এখানেই থামছে না, তা স্পষ্ট। তবে আপাতত ম্যাচ জয়ের আনন্দের মাঝেও সামির বাদ পড়ার ক্ষোভে পুড়ছে বাংলা শিবির—এটাই বাস্তব।







