২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদহ রাজনীতিতে বড় মোড়। সাত বছর পর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ফের কংগ্রেসে ফিরলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নুর। দিল্লিতে কংগ্রেস সদর দফতরে আনুষ্ঠানিক যোগদানের পরই স্পষ্ট ইঙ্গিত—আসন্ন বিধানসভা ভোটে মালদহের সুজাপুর কেন্দ্র থেকেই লড়বেন তিনি। এই প্রত্যাবর্তন শুধু দলবদল নয়, কংগ্রেসের পুরনো ঘাঁটিতে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের বার্তাও দিচ্ছে।
শনিবার দিল্লির ২৪, আকবর রোডে কংগ্রেস দফতরে মৌসমের যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মির, প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ তথা মৌসমের দাদা ইশা খান চৌধুরী। সাংবাদিক বৈঠকে ইশা বলেন, “ওঁর রক্তে কংগ্রেস রয়েছে। অন্য দলে যাওয়ায় আমাদের পরিবারের মধ্যেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। আজ সব বিভাজন ঘুচে গেল।”


উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন মৌসম। সেই সময় মালদহ ও মুর্শিদাবাদের তৃণমূল পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনিই মৌসমকে নবান্নে নিয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়েছিলেন—তখন অবশ্য শুভেন্দু তৃণমূলেই ছিলেন।

এবার কংগ্রেসে ফেরার পর আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন মৌসম। তিনি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেবেন। আগামী সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের দফতরে সেই চিঠি জমা দিতে যাবেন তিনি। যদিও রাজ্যসভায় তাঁর মেয়াদ শেষ হতে এখনও কয়েক মাস বাকি, তার আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মৌসম নিজে জানিয়েছেন, “আমি বরকত (বরকত গনি খান চৌধুরী) সাহেবের পরিবারের সদস্য। সেই ঐতিহ্য বহন করছি। পরিবারের মধ্যেই আলোচনা করে কংগ্রেসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তবে তৃণমূল সম্পর্কে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য করেননি তিনি। বরং বলেন, “তৃণমূল আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ করেছে, জেলা সভাপতির দায়িত্বও দিয়েছিল।” এমনকি দিল্লির সাংবাদিক বৈঠকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আমাদের নেত্রী’ বলেই উল্লেখ করেন মৌসম।


কংগ্রেস সূত্রে খবর, মৌসমের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল ক্ষেত্র মালদহ। সেই কারণেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মালদহ জেলার সুজাপুর কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত। কংগ্রেস শিবিরে আশা, মৌসমের প্রত্যাবর্তনে মালদহে দল নতুন করে সংগঠন মজবুত করার সুযোগ পাবে।







