এসআইআর (Special Intensive Revision) ইস্যুতে এবার রাজপথে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। আগামী ৪ নভেম্বর কলকাতায় মেগা মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
এই মিছিল শুরু হবে বি.আর. আম্বেদকর মূর্তি থেকে এবং শেষ হবে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র এসআইআর প্রতিবাদ নয়— এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে সংবিধান রক্ষার শপথ এবং বাংলা-বিরোধী নীতি ও কেন্দ্রীয় অবিচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা।


তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ইচ্ছাকৃতভাবে এসআইআর প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। দলীয় সূত্রে দাবি, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে ন্যায্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কোনও সাধারণ নাগরিকের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা হলে তৃণমূল রাস্তায় নামবে। তাঁর সেই হুঁশিয়ারির প্রতিফলন ঘটছে আগামী মঙ্গলবারের এই বৃহৎ প্রতিবাদ মিছিলে (Mega Rally)।
২৮ অক্টোবর সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বলেন, “বিজেপির সহকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে ইসি। উৎসবের মরসুমে হঠাৎ এসআইআর ঘোষণা করা মানে জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া।” তাঁর কথায়, “আগে ভোটাররা সরকার বাছত, এখন সরকার ভোটার বাছছে পছন্দমতো।”


তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, “দেড় বছর আগে লোকসভা ভোট হল। এখন যদি মনে করেন ভোটার তালিকা ত্রুটিযুক্ত, তবে আগে নিজেদের দায়িত্ব স্বীকার করুন। ইস্তফা দিয়ে এসআইআর করুন।”
তৃণমূল কংগ্রেসের মেগা মিছিলের মূল বার্তা— ‘ভোটাধিকার বাঁচাও, সংবিধান রক্ষা করো’। দলীয় নেতাদের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলার মানুষকে সতর্ক করা হবে যাতে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়।
এই মিছিলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়ক ও হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী। মিছিলের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ প্রস্তুতি শুরু করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের নীতি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এবার সেই প্রতিবাদ আরও তীব্র রূপে প্রকাশ পেতে চলেছে রাজপথে। দলীয় মহলের মতে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই আন্দোলন তৃণমূলের রাজনৈতিক রণকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মিছিলে থাকবে তিনটি মুখ্য বার্তা— ভোটাধিকার রক্ষা, সংবিধান সুরক্ষা এবং বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় বৈষম্যের প্রতিবাদ। পাশাপাশি, ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ রাখার অভিযোগও এই কর্মসূচির অন্যতম ইস্যু হবে।
রাজনৈতিক মহলে ধারণা, মমতা-অভিষেকের একসঙ্গে নেতৃত্বে এই মিছিল তৃণমূলের ঐক্যের বার্তা দেবে। পাশাপাশি, দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও স্পষ্ট করবে এই কর্মসূচি।
৪ নভেম্বরের কলকাতা তাই দেখবে এক ঐতিহাসিক দৃশ্য— সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর ভাতুষ্পুত্রের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটা।







