ক্ষমতা হারাতেই চাপে ইউনুস? নোবেলজয়ীর বিরুদ্ধে ৪ মামলার ঘোষণা, বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক ঝড়

বাংলাদেশে নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনসহ চার অভিযোগে মামলা ঘোষণার দাবি, রাজনৈতিক পালাবদলের পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের উত্তেজনা বাড়াল নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুসকে ঘিরে নতুন বিতর্ক। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে সরে যাওয়ার পর এবার তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার উদ্যোগের ঘোষণা সামনে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, সংবিধান লঙ্ঘন থেকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে—মোট চারটি অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ওই অধ্যাপক দাবি করেন, ইউনুসের শাসনামলে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত দেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করেছে বলে তাঁর অভিযোগ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া কিছু চুক্তিকেও আইনি চ্যালেঞ্জ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “ইউনুস অ্যান্ড গংদের বিচার হওয়া উচিত”—এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙচুর নিয়েও মামলা প্রস্তুতি

অধ্যাপক কার্জন আরও জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আলাদা মামলা দায়েরের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণ নষ্ট হলেও প্রশাসনের তরফে যথাসময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায়নি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা কী ছিল।

অধ্যাদেশ জারি নিয়েও প্রশ্ন

গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়েও আইনি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অধ্যাপকের দাবি, অধিকাংশ অধ্যাদেশই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ফের তদন্তের দাবি

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ সদস্যদের উপর হামলার ঘটনাও আবার আলোচনায় এসেছে। সরকারি হিসেবে ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হলেও পুলিশের একাংশ দাবি করছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই ঘটনাগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্তে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়েছে।

সংরক্ষিত প্রমাণ ঘিরে নতুন তদন্তের সম্ভাবনা

সূত্রের খবর, হামলার আগে ও পরের ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি রেকর্ডিং এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন তদন্ত এগোয়নি বলে অভিযোগ থাকলেও এখন নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলাদেশে অতীত প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়ে আইনি পর্যালোচনা শুরু হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে ইউনুসের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মামলার ঘোষণা দেশের রাজনীতিকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত