সংঘর্ষবিরতি জারি থাকলেও আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনা এখনও তুঙ্গে। এর মধ্যেই ইরানকে কার্যত চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পষ্ট বার্তায় তিনি জানিয়ে দিলেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে তেহরানকে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ওদের এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নাহলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষবিরতি বজায় থাকলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। সেই আলোচনায় ইরানকে ঘিরে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আমেরিকার দেওয়া শর্ত মানতে অস্বীকার করলে ফের ইরানের উপর সামরিক চাপ বাড়তে পারে। সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিতই ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আমেরিকা ইরানের সামনে পাঁচ দফা শর্ত রেখেছে। তার মধ্যে অন্যতম, সীমিত পরিসরে একটি পরমাণু ঘাঁটি চালানোর অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইরানের আর্থিক দাবি মেনে নিতে নারাজ ওয়াশিংটন।


এছাড়াও দাবি করা হয়েছে, ইরানকে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে। পাশাপাশি আমেরিকা যে বৈদেশিক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে, তার ২৫ শতাংশ ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ইরানের কয়েকটি দাবিকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি এখন “লাইফ সাপোর্টে” রয়েছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি যে কোনও সময় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপরও।







