নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘আমাদের শক্তি মেরে তোরাও বাঁচবি নে রে, বোঝা তোর ভারী হলেই ডুববে তরীখান’- এই মন্ত্রে ভর করে পথে নেমেছে একটা গোটা দেশ। মৌলবাদী প্রশাসনের চোখে চোখ রেখে বন্দুকের সামনে বুক পেতে দিয়েছে একটা যুব সমাজ। নিরস্ত্র মহিলাদের চোখ, মুখ, স্তন, যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে শটগান। দেশটার নাম ইরান। হিজাব বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ‘অপরাধে’ মহসিন শেকারি নামে ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আর তারপরেই আরও অগ্নিগর্ভ হওয়া উঠেছে দেশ। পথে নেমেছে লক্ষ লক্ষ মহিলারা। আরও যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার।
আরও পড়ুনঃ চরম অসুস্থ পুতিন, পড়ে গিয়ে পোশাকেই মলত্যাগ রুশ রাষ্ট্রনায়কের, জল্পনা রাশিয়া জুড়ে


কাল প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরই যেন জ্বলে উঠেছে দেশটা। মহসিনের মৃত্যু কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। মহসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজধানী তেহরানের রাস্তা আটকে প্রতিবাদ করছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে আধা-সামরিক বাহিনীর একজনকে আক্রমণ করার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আদালত জানিয়ে দেয়, হিজাব পরার প্রতিবাদ করে আসলে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অন্যায় করেছেন মহসিন। কিন্তু এর মধ্যেই ইরানের যুবসমাজ ক্ষিপ্ত হয়াছে। ইতিমধ্যেই ইরানের তরফে সরকারিভাবে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার দেওয়া হয়েছে। প্রচুর সংখ্যক আন্দোলনকারীদের কারাদণ্ডের সাজাও দেওয়া হয়েছে।

বিগত দু’মাস ধরে হিজাব বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছে তরুণীরা, সামিল হয়েছে সে দেশের তরুণরাও। আন্দোলন দমন করতে পাখি মারার পেলেট গান বেছে নিয়েছে বাহিনী। ক্ষতবিক্ষত বহু মহিলার চিকিৎসা চলছে আন্দোলনস্থলেই। পুরুষরাও আহত, তাঁদের পা, পিঠ বেশি জখম হয়েছে। কিন্তু মহিলাদের মুখ, চোখ, স্তন, পায়ের মাঝেই মূল লক্ষ্য করে গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক চিকিৎসকের কথায়, ‘কুড়ির কোঠার একটি মেয়ের যৌনাঙ্গে দুটি পেলেট গেঁথে গেছে। দুই উরুতে আরও দশটি। উরুরগুলি বের করা গেলেও, ভ্যাজাইনা থেকে পেলেটদুটি বের করা কঠিন।’ চিকিৎসকদের অভিযোগ, বাহিনীর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। রীতিমতো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নষ্ট করছে এই পেলেট।


ইরানে মহিলাদের চোখ-মুখ-স্তন-যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে গুলি, ক্ষতবিক্ষত বহু মহিলার চিকিৎসা চলছে আন্দোলনস্থলেই

হিজাব না পরার কারণে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় ইরানের তরুণী মাহসা আমিনির। তারপরেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়া ফিডগুলি আমিনির সাথে সংহতি প্রকাশ করে নারীদের তীব্র প্রতিবাদ করার বিক্ষিপ্ত ভিডিওতে প্লাবিত হয় গোটা বিশ্ব। চুল কাটা থেকে শুরু করে হিজাব পোড়ানো এবং চিৎকার করা, ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’- প্রতিবাদ সবই দেখছে সকলে। ইরানের মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়েছে গোটা বিশ্ব। তবু স্বৈরাচারী শাসনের চোখ রাঙ্গানিকে কি এড়িয়ে যেতে পারবে তাঁরা?







