নজরবন্দি ব্যুরোঃ IPS-দের ডেপুটেশন ইস্যুতে সংঘাত চরমে। রাজ্যের যে ৩ IPS-কে নয়া পোস্টিং দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, কিন্তু তাঁদের ছাড়া হবে না। সাফ জানিয়ে দিল রাজ্য সরকার। উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত ও গ্রামোয়ন্ননমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও এদিন সন্ধ্যায় বলেন, “ক্ষমতার অপব্যহার করছে কেন্দ্র। ক্ষমতার এই অপব্যবহারের কাছে নতিস্বীকার করবে না রাজ্য। এই সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক, গ্রহণযোগ্য নয়।” নাড্ডার কনভয়ে ‘বিতর্কিত’ হামলার পর বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তিন আইপিএস অফিসারের বদলির নির্দেশ দেয়।
আরও পড়ুনঃ কৃষি আইনে বদল চেয়ে কৃষকদের লড়াই করার অধিকার আছে: সুপ্রিম কোর্ট
তারপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে সরাসরি সঙ্ঘাতের ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ঘটনা ‘ক্ষমতার আস্ফালন’ ও ‘১৯৫৪ IPS ক্যাডার রুলের অপব্যবহার’। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরপর তিনটি টুইটে তিনি জানান, কেন্দ্রের ওই উদ্যোগ রাজ্য সরকার কোনওমতেই মেনে নেবে না। প্রথম টুইটটিতে মমতা লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তি অগ্রাহ্য করে রাজ্যে কর্মরত ৩ জন আইপিএস অফিসারকে সেন্ট্রাল ডেপুটেশনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। এ ক্ষেত্রে ১৫৯৪ সালের আইপিএস ক্যাডার বিধির জরুরি পরিস্থিতি জনিত ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে’।
দ্বিতীয় টুইটে মমতার অভিযোগ, ‘এই ঘটনা রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ এবং পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত সরকারি আধিকারিকদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। বিশেষত, ভোটের আগে এই ঘটনা আসলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত হানার প্রয়াস। যা পুরোপুরি অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণীয়’। শেষ টুইটে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘ঘুরপথে রাজ্যের প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রের এই উদ্যোগ আমরা কোনও অবস্থাতেই মেনে নেব না। পশ্চিমবঙ্গ আধিপত্যবাদী, অগণতান্ত্রিক শক্তির সামনে মাথা নোয়াবে না’।
এদিকে বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় তোপ দেগেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, “কেন্দ্রের ও রাজ্যের কী কী নিয়ম আছে, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জানা উচিত।” তাঁর কথায়, এটা কেন্দ্রের অধিকার। যাঁরা ভারত সরকারের অধীনে কাজ করেন, ‘তাঁদের বদলির করার অধিকার রয়েছে কেন্দ্রের। কেন্দ্র ও রাজ্যের কী কী নিয়ম আছে, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জানা উচিত। সমস্ত বিষয়েই যদি বিরোধিতা করেন,তাহলে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বেন।”
IPS-দের ডেপুটেশন ইস্যুতে সংঘাত চরমে। আজ ফের একবার রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তোলেন কৈলাস। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে অরাজকতা চলছে। মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এইসব নোংরা রাজনীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই হচ্ছে, আগে কখনও কোথা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে কোনও আইনশৃঙ্খলা নেই। সেই কারণে এখনই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া উচিত।” কৈলাস বিজয়বর্গীয় স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার কথা ভাবা হচ্ছে সর্বোচ্চ স্তরে!!



