ভোটের উত্তাপে কলকাতার রাজনৈতিক মঞ্চে এক অদ্ভুত দ্বৈত ছবি। একদিকে তৃণমূলের পক্ষে প্রচারে ব্যস্ত বিরোধী জোটের শরিক নেতারা, অন্যদিকে একই জোটের গুরুত্বপূর্ণ মুখ Rahul Gandhi সরাসরি আক্রমণ শানাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ভোটের মুখে কি চাপে পড়ছে INDIA Alliance?
কলকাতায় প্রচারে রয়েছেন কেজরিওয়াল ও তেজস্বীর। তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের এই সক্রিয়তা জোটের সমীকরণকে আরও স্পষ্ট করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই পশ্চিমবঙ্গের ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান প্রকাশ্যে আনলেন রাহুল গান্ধি।


আসানসোলে কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করতে গিয়ে রাহুলের অভিযোগ, তৃণমূল-সমর্থিত দুষ্কৃতিদের হাতেই এই খুন হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে গণতন্ত্রের পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখতে ভয় দেখানো ও হামলার পথ নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, দল কখনও সহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। অতীতে কর্মী হারালেও কংগ্রেস সবসময় সংবিধান ও অহিংসার পথেই থেকেছে। ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, দোষীদের গ্রেফতার এবং মৃতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
অন্যদিকে, আসানসোল কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় রয়েছে এবং পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক, তবে সত্যিটা সামনে আসা জরুরি।


এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে—একই জোটের শরিকদের মধ্যে এমন প্রকাশ্য মতপার্থক্য কি ভবিষ্যতে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত? নাকি এটি শুধুই নির্বাচনী কৌশল? ভোট যত এগোচ্ছে, ততই এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।







