দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ডায়মন্ড হারবারে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ সামনে আসতেই দ্রুত অ্যাকশনে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ জমা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের কাছে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ, আর সেই নির্দেশ মেনে বাইকবাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন—স্পষ্ট বার্তা, হুমকি বা ভয় দেখানো বরদাস্ত করা হবে না।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাইকবাহিনীর বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, শান্তিভঙ্গের চেষ্টা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পরই কমিশন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিক এবং পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং রবিবারের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বলা হয়। সেইসঙ্গে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে কমিশন, যেখানে অভিযোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।


ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কমিশনের প্রকাশিত ভিডিয়ো খতিয়ে দেখে তারা দেখেছে—এটি অতিরঞ্জিত অভিযোগ। তাদের বক্তব্য, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই মোটরবাইক র্যালি হয়েছে এবং সেখানে কোনও উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়নি।
পাল্টা প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগে ধরা পড়া এক পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে কমিশন কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেই জবাবও দিতে হবে।
অন্যদিকে অভিযোগ, ওই বাইক মিছিল থেকে ভয় দেখানোর স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, যা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন। ইতিমধ্যেই ডায়মন্ড হারবারে কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং নতুন আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রবিবার কাকদ্বীপে যান সিইও মনোজ অগ্রবাল। সেখানে প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট এবং প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর কথায়, “ভোটারদের ভয় দেখানো কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”


দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ডায়মন্ড হারবারে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাপ বাড়লেও, নির্বাচন কমিশন কড়া নজরদারিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।







