বিধানসভা ভোটের আগে হাওড়ার বালিতে জনসভা থেকে উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড পেশ করে বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিকাশি থেকে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো—সব সমস্যার সমাধানের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি ঘোষণা করলেন, “স্বপ্নের বালি গড়ে তুলব।” ভোটের আগে এই বার্তা স্পষ্ট—উন্নয়নই তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র।
শনিবার বালিতে সভা করতে এসে শুরুতেই এলাকার দীর্ঘদিনের নিকাশি সমস্যার কথা উল্লেখ করেন অভিষেক। তিনি জানান, স্থানীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে সমস্যার কথা জেনেছেন এবং তা সমাধানের দায়িত্ব নিচ্ছেন তিনি নিজে। তাঁর কথায়, ভবিষ্যতে বালিকে একটি আধুনিক, উন্নত শহরে পরিণত করা হবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন নিয়েও বড় ঘোষণা করেন তিনি। কেদারনাথ আরোগ্যভবন ভেঙে নতুন করে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তাঁর লোকসভা এলাকায় যেভাবে রাস্তা, নিকাশি এবং হাসপাতালের উন্নয়ন হয়েছে, বালিতেও সেই মডেলই প্রয়োগ করা হবে।

স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্রকে “ভূমিপুত্র” হিসেবে তুলে ধরে অভিষেক বলেন, তিনি এলাকার মানুষের কাছে সবসময় পৌঁছে যাবেন। ভোটে তাঁকে জেতানোর জন্য অন্তত ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানের লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দেন তিনি।
বালিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক জানান, প্রায় ১৩ হাজার যুবক-যুবতী যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন হাজার হাজার মহিলা ও ছাত্রী।
বালি পুরসভার নির্বাচন নিয়ে আইনি জটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আশ্বাস দেন, বিধানসভা নির্বাচনের ছ’মাসের মধ্যে পুরভোট সম্পন্ন করা হবে। সেই সঙ্গে জানান, যোগ্য ও কাজের মানুষদেরই প্রার্থী করা হবে।
বিরোধীদের আক্রমণ করতেও পিছপা হননি অভিষেক। বাম ও বিজেপিকে একসুরে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, একসময়কার বাম ঘাঁটি এখন বিজেপির দখলে গেছে। তাঁর মন্তব্য, “আগে যারা বাম ছিল, এখন তারা রাম—নতুন বোতলে পুরোনো মদ।”
পুরো সভা জুড়ে উন্নয়ন, প্রতিশ্রুতি এবং রাজনৈতিক আক্রমণের মিশেলে বালির ভোটযুদ্ধকে আরও তীব্র করে তুললেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।



