দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কাকদ্বীপে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে কঠোর বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—ভোটে কোনও বাধা, ভয় দেখানো বা অশান্তি একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদানের লক্ষ্য স্থির করে প্রশাসনকে সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার কাকদ্বীপ মহকুমাশাসকের দফতরে প্রশাসনিক আধিকারিক, পুলিশ এবং রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন সিইও। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ও সুন্দরবন পুলিশ জেলার শীর্ষ আধিকারিকরাও। মূল লক্ষ্য—শেষ দফার ভোটকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও অবাধ রাখা।


বৈঠকের পর মনোজ আগরওয়াল জানান, “পরিস্থিতি সন্তোষজনক। কিন্তু কোনওরকম শিথিলতা চলবে না। ভোটদানে বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, ভোটারদের উৎসাহিত করতে হবে এবং উচ্চ শতাংশে ভোট নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এবার বাড়তি নজরদারি থাকছে। প্রতিটি বুথে সিসিটিভি এবং লাইভ মনিটরিং থাকবে, এমনকি আগের ১০ মিনিটের ফুটেজও তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যাবে। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বাইক বাহিনীর দাপট বা কোনও ধরনের দাদাগিরি সহ্য করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি কমিশনের কো-অর্ডিনেশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি এলাকায় টহল জোরদার করা হবে। প্রায় ১৬০টি বাইকে জওয়ানরা জোড়ায় জোড়ায় এলাকায় ঘুরে নজরদারি চালাবেন। শুধু বুথ নয়, বুথে যাওয়ার রাস্তাতেও সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যা আগে ছিল না।


সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কাকদ্বীপে প্রশাসনিক প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। কমিশনের বার্তা স্পষ্ট—নির্বাচনে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না, প্রতিটি ভোটার যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।







