দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা। কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী দাবি করলেন, তৃণমূলের বহু নেতা নাকি ইতিমধ্যেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যে ভোটের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, যাঁরা ভোটে হারবেন, তাঁরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সুরক্ষিত করতে এখন থেকেই BJP-র সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁর দাবি, বিশেষ করে বহরমপুরের বেশ কিছু তৃণমূল নেতা দল বদলের পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। এমনকি পুরসভা স্তরেও এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


অধীরের বক্তব্য, ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় অনেকেই ‘রাজনৈতিক নিরাপত্তা’ খুঁজছেন। তাঁর কথায়, “আগামী দিনে টিকে থাকতে বিজেপির হাত-পা ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই।”
এই মন্তব্য ঘিরে পাল্টা আক্রমণে নেমেছে TMC। দলের তরফে কড়া ভাষায় অধীরকে আক্রমণ করে বলা হয়েছে, তৃণমূলের এমন দুর্দিন আসেনি যে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
তৃণমূল নেতা অপূর্ব সরকার কটাক্ষ করে বলেন, অধীর নিজেই বিজেপির ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু’। তাঁর দাবি, জেলায় বিজেপির স্বার্থেই কাজ করছেন কংগ্রেস নেতা। পাশাপাশি তৃণমূলের কেউ বিজেপিতে যোগ দেবেন না বলেও দাবি করেন তিনি।


উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নির্বাচনী সভা থেকে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’র আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ফল ঘোষণার পর বিজেপি ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে অধীরের মন্তব্য নতুন করে সেই বিতর্কই উস্কে দিল। ভোটের আগে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এ কি শুধুই নির্বাচনী কৌশল, নাকি বাস্তবেই অন্দরে চলছে অন্য কোনও সমীকরণ?







