নজরবন্দি ব্যুরোঃ বগটুইকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত লালন শেখের সিবিআই হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় এবার লালনের স্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সিআইডির তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন কলকাতা হাই কোর্ট। এবার লালন শেখের স্ত্রীর বয়ানে বিস্মিত হাইকোর্ট। কড়া মন্তব্য করলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
আরও পড়ুনঃ Sikkim: খাদে পড়ে ১৬ জন সেনার মৃত্যু, সিকিমের ঘটনায় বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা


এদিন বিচারপতি লালনের স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁকে সিবিআইয়ের নম্বর কে দিল? উত্তরে রেশমা বলেন, সিবিআই অফিসাররা দিয়েছেন। কিন্তু এফআইআর কে লিখল এবিষয়ে কিছুই জানেন না বলেই জানিয়েছেন রেশমা। কান্নাকাটির সময় কে লিখে দিয়েছিল মনে নেই বলেই জানিয়েছেন রেশমা।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় ৭ অফিসারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অথচ তাঁর বয়ান কেন রেকর্ড করা হয়নি? প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি। তবে লালন শেখের মৃত্যু তদন্তে সিআইডির ভূমিকায় অসন্তুষ্ট আদালত। ডিআইজিকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। রেশমা সিবিআই আধিকারিকদের ফোন নম্বর কোথা থেকে পেল? সেটা খতিয়ে দেখা জরুরী। এমনটাই মত প্রকাশ করেছেন বিচারপতি।

একইসঙ্গে বিচারপতির বক্তব্য, সিআইডির বর্তমান অফিসারদের তদন্ত নিয়ে একেবারেই খুশি নয় তিনি। বরং বড় পদমর্যাদার কোনও অফিসারদের তদন্তভার দিতে চান বিচারপতি। আপাতত ডিআইজি সিআইডির তত্বাবধানেই চলবে তদন্ত। সিবিআইয়ের অভিযোগের বিরুদ্ধে হলফনামা দেবে রাজ্য ৩০ ডিসেম্বর।


চলতি বছরের ২১ মার্চ বগটুইয়ের নৃশংস হত্যার ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে ফেরার ছিল ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত লালন। পরিচয়ে সে বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রয়াত ভাদু শেখের ঘনিষ্ঠ। গত ৪ ডিসেম্বর ঝাড়খন্ড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। এরপর তাঁকে ৬ দিনের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
লালনের পরিবারের দাবি ছিল, সিবিআই হেফাজতে অত্যাচার চালানো হয়েছে লালনের ওপর। এমনকি তাঁর জিভ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অন্য আসায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। বলা হয়, লালনের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। খুনের ঘটনার ক্ষেত্রে যে সমস্ত চিহ্ন পাওয়া যায়, এখানেই সেই সমস্ত কিছুই মেলেনি।
লালন শেখের স্ত্রীর বয়ানে বিস্মিত হাইকোর্ট, বিরাট পদক্ষেপ

সিবিআই অফিসারদের নাম উল্লেখ করে লালনের পরিবার দাবি করে, তাঁদের বার বার হুমকি দেওয়া হয়েছে। লালনকে মেরে ফেলা হবে বলে ভয় দেখানো হয়েছে। কখনও হার্ড ডিস্ক না পেলে ৫০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে। এর পর পুলিশের তরফে দায়ের হওয়া এফআইআরে মোট ৭ সিবিআই আধিকারিকের নাম রয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১২০ বি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক খুন ও খুনের ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। এখন মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্টে।







