নজরবন্দি ব্যুরোঃ Green Tea খেলেই রোগা হওয়া যায়, এ কথা কমবেশি প্তায় সকলেরই জানা। কিন্তু জানেন কি এটি পান করার সঠিক সময় কখন আর সঠিক পরিমাণ কতটা? এতে কী কী উপকার তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা অনেকেরই নেই। অতিরিক্ত গ্রিন টি যেমন পান করা ঠিক না, তেমনই আবার খালি পেটে ঘুম থেকে উঠেই গ্রিন টি (Green Tea), কিংবা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে গ্রিন টি পান করাও মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।
আরও পড়ুনঃ পুলিশে চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণা, গ্রেফতার তিন


আমেরিকান জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্র বলছে, অন্যান্য চায়ের মতো গ্রিন টি আমাদের শরীরে জারিত হয় না। তাই এই চা অন্য চায়ের তুলনায় স্বাস্থ্যকর। অনেক রকম ফ্লেভার তো বটেই, বাজারে ভেষজ গ্রিন টি-ও পাওয়া যায়। গ্রিন টি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড জমতে দেয় না। রক্তনালিতে এই সব ফ্যাট জমলে রক্ত সঞ্চালন বাধা পায়।

সবই তো ঠিক আছে! গ্রিন টি খাচ্ছেন ঠিকই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে কিন্তু কখন খাবেন তার ব্যাপারে সঠিক তথ্য জানেন তো আপনি? যদি গ্রিন টি খাওয়ার সঠিক সময়ই না জানলেন তবে খেয়ে তো আপনার তেমন উপকার হবেই না বরং ক্ষতির সম্মুখীনই হবেন আপনি। মেটাবলিজমের মাত্রা বাড়িয়ে দ্রুত ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। গ্রিন টি পলিফেনল ও ফ্লাভেনয়েডের মতো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে পরিপূর্ণ যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।
সঠিক গ্রিন টি বেছে নেওয়ারও কিছু পদ্ধতি কি?


- অর্গানিক গ্রিন টি বেছে নিলে কীটনাশকের বা কোনও ক্ষতিকারক রাসায়নিকের প্রভাবমুক্ত থাকা যাবে
- সতেজ গ্রিন টি কিন্তু হালকা সবুজ রঙেই হবে
- টি ব্যাগ এড়িয়ে চলাই ভাল
- পাতার আকার হবে বড়
- মার্চ-এপ্রিল মূলত এই গ্রিন-টি চাষ করা হয়, তাই পুষ্টিগুণও সেই সময় সবচেয়ে বেশি মেলে।
- ৬ মাসের বেশি গ্রিন টি রাখা যায় না কোনওমতেই
- গ্রিন টি-তে কখনওই চা মিশিয়ে খাবেন না
- গ্রিন টি-র প্যাকেটে এপিগ্যালোক্যাটেচিন (ইজিসিজি)আছে কি না দেখতে হবে, ভাল রকমের ইজিসিজি মানে সেটাই কেনা ভাল।
- গ্রিন টির গন্ধ হবে হালকা, সতেজ, কচি ঘাসের মতো
- গ্রিন টি রাখতে হবে কাচ বা পোর্সেলিনের বদ্ধ পাত্রে
- খাওয়ার বিষয়ে কী কী খেয়াল রাখতে হবে
- গ্রিন টি-তে দুধ মেশানো ঠিক নয়
- ওয়ার্ক আউটের আগে বা পরে গ্রিন টি খাওয়া যায়
- স্ন্যাক্স খাওয়ার ইচ্ছা দমন করতে হলেও এক কাপ গ্রিন টি যথেষ্ট

গরম গ্রিন টি-তে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের পরিমাণ বেশি থাকে, বলছে একাধিক গবেষণা। কিন্তু এতে কি ওজন কমে?
গ্রিন টি খেয়ে কখনও উপোস করা উচিত না, জানালেন পুষ্টিবিদ সোমা চক্রবর্তী। কারণ এর ফলে টক্সিসিটির পরিমাণ বাড়তে পারে। এ ছাড়াও পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রিন টি পান করে ওজন কমানো একেবারেই ঠিক নয়। পেপটিক আলসারের রোগীরা গ্রিন টি না খাওয়াই ভাল। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গ্রিন টি পান করতে চাইলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও বলেন তিনি। শুধুমাত্র গ্রিন টি খেলে রোগা হওয়া যায়, এ জাতীয় কথা একেবারেই ঠিক না, জানান মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস।
সঠিক গ্রিন টি বানানোর পদ্ধতি
৫ গ্রাম বা এক চা চামচ গ্রিন টি নিতে হবে। জল গরম করে ফুটে গেলে (৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জল থাকলে ভাল।) তারপর তা সামান্য ঠান্ডা হলে স্টিল বা কাচের পাত্রে রাখতে হবে। তার পর এতে চা পাতা যোগ করে ৩ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে। চা পাতা পুরোপুরি ভিজে গেলে পছন্দের কাপে চা ছেঁকে চুমুক দিন প্রিয় পানীয়তে।
কেউ চাইলে এর মধ্যে দারচিনি গুঁড়ো, এলাচ গুঁড়ো, আমলা গুঁড়ো যোগ করতে পারেন। যোগ করা যায় আদাও। এক চা চামচ আমলার রস, এক চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ আদার রসে গ্রিন টি পাবে অন্য মাত্রা। তবে দিনে দু থেকে তিনবারই যথেষ্ট। অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করা কখনওই ঠিক নয়।

গ্রিন টি পান করার সঠিক সময় –
নাস্তা করার পর – সকালে উঠে অবশ্যই নাস্তায় এমন খাবার খাওয়া উচিত যাতে করে সারাদিন আপনার শরীর অনেক ভাল থাকে। তাই সকালে আপনি অবশ্যই চা খাবেন না খালি পেটে। এতে দেখা যাবে আপনার ডিহাইড্রেশন এর সমস্যা হবে। আর তাছাড়া খালি পেটে গ্রিন টি খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কিংবা আলসারও হতে পারে। সুতরাং সকালের নাস্তায় হেলদি কোন খাবার খান এবং এরপর গ্রিন টি খান।
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে – আপনি যদি ওজন কমানোর জন্য গ্রিন টি খান তবে তার জন্য সঠিক সময় হল রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক ২ ঘন্টা আগে। রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে গ্রিন টি আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করবে আর এটা অনেক বেশি কাজ করবে ততক্ষন পর্যন্ত যতক্ষণ না আপনি অন্যকিছু খাবেন। রাতে তো আর আপনি অন্যকিছু খান না তাই ভালো করে কাজ করতে পারে গ্রিন টি। অনেক সময় চা আপনার ঘুম নষ্ট করে এজন্যে চা পান করার সাথে সাথে ঘুমাতে না গিয়ে ঘুমানোর ২ ঘণ্টা আগেই পান করুন।
Green Tea খেলেই রোগা হওয়া যায়, কিন্তু জানেন কি দিনে কখন, কতটা গ্রিন টি পান করলে সবচেয়ে উপকারী?

ব্যায়াম করার পূর্বে – ব্যায়াম করার আধাগন্টা আগে গ্রিন টি পান করুন। যদি আপনি আধাঘন্টা আগে পান করেন তবে এতে করে আপনার কর্মক্ষমতা বাড়বে। এমন কি এটা আপনার ওজন এবং মেদ কমাতে সাহায্য করবে।
খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে অথবা পরে – অনেকেই খাবার খাওয়ার পরপরই চা পান করেন। খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই গ্রিন টি পান করা উচিত নয়। খাবার খাওয়ার কমপক্ষে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পরে অথবা আগে গ্রিনটি পান করুন।







