আন্তর্জাতিক বাজারের টানাপোড়েন, ডলারের ওঠানামা এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার দামে। তার জেরেই কলকাতার সোনার বাজারে দেখা যাচ্ছে অস্বাভাবিক দামের ওঠানামা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১ গ্রামের দামে বড় পরিবর্তন ক্রেতাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে— এখনই কি সোনা কেনার সঠিক সময়, নাকি অপেক্ষাই বুদ্ধিমানের কাজ?
সম্প্রতি কলকাতায় ২২ ক্যারেট ও ২৪ ক্যারেট সোনার দামে একাধিকবার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে প্রতি গ্রামে কয়েকশো টাকার ওঠানামা বিয়ের মরশুম, উৎসবের কেনাকাটা এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলছে। গয়নার দোকানগুলিতেও ক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট।


সাধারণভাবে ২৪ ক্যারেট সোনা খাঁটি হওয়ায় বিনিয়োগের জন্য বেশি জনপ্রিয়, অন্যদিকে ২২ ক্যারেট সোনা গয়না তৈরিতে বেশি ব্যবহৃত হয়। সোনার দাম নির্ধারিত হয় আন্তর্জাতিক স্পট রেট, আমদানি শুল্ক, জিএসটি এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদার উপর নির্ভর করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বাজার অস্থির থাকলে একবারে বড় অঙ্ক বিনিয়োগ না করে ধাপে ধাপে কেনাই তুলনামূলকভাবে নিরাপদ কৌশল। এতে দামের ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব।
বর্তমানে অনেক বিনিয়োগকারী ফিজিক্যাল সোনার পরিবর্তে ডিজিটাল বিকল্পের দিকেও ঝুঁকছেন। সোভরেন গোল্ড বন্ড (SGB), গোল্ড ETF এবং ডিজিটাল গোল্ডের মতো অপশন সংরক্ষণের ঝামেলা কমায় এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধাও দেয়।


ক্রেতাদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— সোনা কেনার সময় অবশ্যই হলমার্ক চিহ্ন যাচাই করুন, মেকিং চার্জ তুলনা করুন এবং বিল সংগ্রহ করতে ভুলবেন না। শুধু কম দাম দেখেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশুদ্ধতার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কলকাতায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি ১০ গ্রামে ১৫,০৩৫ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১২,৩৪৫ টাকা। পাশাপাশি ১ কেজি রুপোর দাম হয়েছে ২,৭০,৩৬২ টাকা। উল্লেখ্য, এই দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ জিএসটি যুক্ত হবে।
গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে সোনার দাম বৃদ্ধির ফলে অনেকেই এখন অন্যান্য বিনিয়োগের পাশাপাশি সোনাকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছেন বলে স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটি (SSBC) সূত্রে জানা গেছে।







