সামাজিক দূরত্ব মেনে উৎসব, আজ সাত রাজ্যের সঙ্গে বৈঠকে মোদী ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সামাজিক দূরত্ব মেনে উৎসব, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে এক লক্ষেরও বেশি রোগী কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে নজির গড়ল। তবে এই পরিসংখ্যান জানানোর পাশাপাশিই আগামী মাস থেকে শুরু হতে চলা উৎসবের মরশুমে দেশবাসীকে কঠোর ভাবে কোভিড-স্বাস্থ্যবিধি মানতে বললেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকর্তারা। তাঁরা জানিয়েছেন, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ এখনও সংক্রমিত হতে পারেন ।

আরও পড়ুনঃ ৫ বছরে ৫৮টি দেশে সফর করেছেন মোদী! চিন গেছেন ৫ বার। খরচ জানেন?

এরইমধ্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আগামীকাল সাতটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আশার কথা এই যে, এ বারের বৈঠকে থাকছে না পশ্চিমবঙ্গ । কেন্দ্র জানিয়েছে, কাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পর্যালোচনা-বৈঠকে থাকবে মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, দিল্লি এবং পঞ্জাব। এই সাতটি রাজ্যে সারা দেশের ৬৩ শতাংশেরও বেশি অ্যাক্টিভ রোগী রয়েছেন। মোট সংক্রমিতের ৬৫.৫ শতাংশ এবং কোভিডে মৃতদের ৭৭ শতাংশেরও ঠিকানা এই রাজ্যগুলি।

সংক্রমণের নিরিখে পঞ্জাব বাদে বাকি রাজ্যগুলি প্রথম ছয়ে রয়েছে। দিল্লি রয়েছে ছ’নম্বরে, আর ১৭ নম্বরে পঞ্জাব। পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে সাতে। কিন্তু কেন্দ্রের বক্তব্য, ‘প্রথম পাঁচের’ পাশাপাশি দিল্লি এবং পঞ্জাব ছাড়াও সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী । দিন কয়েক আগেই দেশে কোভিড আক্রান্তের দৈনিক সংখ্যা নব্বই হাজারের ঘরে ঘোরাফেরা করছিল। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কমে তা ৭৫ হাজারে নেমেছে । কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছেন, গত চারদিনে নতুন আক্রান্তের চেয়ে একটানা সুস্থতার হার বেশী ।

তবে সামনেই আসছে উৎসব। তাই তার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক । আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) ভি কে পল এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, স্বাস্থ্যবিধি পালনে ঢিলেঢালা মনোভাব চলবে না, বরং আরও কঠোর ভাবে তা মানতে হবে। কারণ, এখনও দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের করোনা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘মাস্ক পরলে ৩৬ থেকে ৫০ শতাংশ করোনা সংক্রমণ প্রতিহত করা যায়। তাই টিকা না-আসা পর্যন্ত মাস্ক পরা, দূরত্ববিধি মেনে চলা, বড় জমায়েত এড়ানো, হাত পরিষ্কার রাখার মতো বিষয়গুলিই ‘সামাজিক প্রতিষেধক’ হিসেবে কাজ করবে।’’ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ জানিয়েছেন, সারা বিশ্বে সব চেয়ে বেশি মানুষ কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন ভারতেই।

বিশ্বে কোভিডে প্রতি দশ লক্ষে মৃত্যুর হার গড়ে ১২৩ জন । কিন্তু ভারতে তা ৬৪, যা ন্যূনতম গড়গুলির অন্যতম। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিশ্বে মোট সংক্রমণের ১৭.৭ শতাংশ ভারতে হয়েছে। আবার সারা দুনিয়ার করোনা-জয়ীদের মধ্যে ১৯.৫ শতাংশই ভারতের মানুষ। আমেরিকায় এই দু’টি হার যথাক্রমে ২২.৪ শতাংশ এবং ১৮.৬ শতাংশ, ব্রাজিলে যথাক্রমে ১৪.৫ শতাংশ এবং ১৬.৮ শতাংশ। ভারতে এখন অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা মোট সংক্রমিতের সংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম। ৫০ লক্ষের বেশি সংক্রমণ দেখে আমরা ভুলে যাই, এ দেশে ৪৫ লক্ষের কাছাকাছি মানুষ সেরেও উঠেছেন।’’

আরও পড়ুনঃ প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সুয়ারেসের বিরুদ্ধে।

দেশজুড়ে চালানো সাম্প্রতিক সেরো-সার্ভেতে ১০টি ‘হটস্পট’ শহরের কন্টেনমেন্ট এলাকার তথ্য এখনও দেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন ওঠে সাংবাদিক বৈঠকে। আইসিএমআর-এর প্রধান বলরাম ভার্গব বলেন, ‘‘কন্টেনমেন্ট এলাকাগুলি কোনও চূড়ান্ত এলাকা নয়। সেখানে সংক্রমণের বিন্যাসও ক্রমাগত পাল্টাতে থাকে। সেরো-সার্ভেতে সেখান থেকে নমুনাও নেওয়া হয় কম। এই কারণেই ওই এলাকাগুলির তথ্য দেওয়া হয়নি।’’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর