নজরবন্দি ব্যুরোঃ টানা এক বছরের বেশী সময় ধরে চলা শেষের পথে আন্দোলন। সরকারের তরফে বিবৃতি পাওয়ার পরেই সিঙ্ঘু সীমান্তে তাঁবু গোটাতে শুরু করেছেন কৃষকরা। এর থেকেই আভাস মিলছে কৃষকদের দীর্ঘ আন্দোলনের এবার সমাপনের সময় চলে এসেছে। শনিবারের মধ্যেই সিঙ্ঘু সীমান্ত কাহ্লি করার সিদ্ধান্ত কৃষকদের।
আরও পড়ুনঃ CDS Rawat Chopper Crash: এয়ার মার্শালের নেতৃত্বে ত্রিস্তরীয় তদন্ত, সংসদে জানালেন রাজনাথ


মঙ্গলবার থেকেই এবিষয়ে দফায় দফায় কেন্দ্রের সঙ্গে চিঠি আদানপ্রদান চলছে কৃষকদের সঙ্গে। বুধবার কৃষকরা তাঁদের অসম্পূর্ণ দাবী নিয়ে ফের কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দেয়। তারই জবাব এসেছে বৃহস্পতিবার। সেবিষয়েই বৈঠক চলছে। যদিও সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার সদস্য রাকেশ টিকায়িত জানিয়েছেন, সরকারের তরফে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে তা ভালো করে পড়ে তবেই সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা।

এর আগেই কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাঁচ জনের একটি কমিটি গঠন করে আন্দোলনকারী কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। সেই কমিটির সদস্য অশোক ধাওয়ালে জানিয়েছেন, সরকারের তরফে ফের নয়া ড্রাফট এসেছে। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখেই এসকেএম সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। যদিও সরকারের তরফে কৃষকদের দুই মুখ্য দাবী এমএসপির সুনিশ্চিতকরন এবং কৃষকদের বিরুদ্ধে যে মামলা রয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবী মেনে নেওয়া হচ্ছে।
আগামী শনিবার সিঙ্ঘু এবং টিকরি উপকন্ঠে জয় উৎসব পালন করতে চলেছেন কৃষকরা। ১৩ তারিখ অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে যাবেন আন্দোলনরত কৃষকরা। এটা কৃষকদের জন্য বড় জয়। তাই জয়োৎসব পালন করবেন কৃষকরা।


The new draft proposal received from the Govt will be discussed in the meeting of Samyukt Kisan Morcha (SKM) today. Accordingly, the SKM will take a decision (regarding withdrawing the agitation): Ashok Dhawale, a member of SKM's five-member committee pic.twitter.com/5Xghlz1vNy
— ANI (@ANI) December 9, 2021
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে পাশ হয় তিন কৃষি আইন। সেই তিন আইনের প্রত্যাহারের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই লাগাতার আন্দোলন জারি রেখছেন কৃষকরা। এরপর তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবীতে দিল্লি উপকন্ঠে চলে লাগাতার আন্দোলন। প্রায় এক বছরের মাথায় আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে আইন প্রত্যাহারের আশ্বাস দেন তিনি। সেইমতো সংসদে তিন আইন প্রত্যাহার বিল পাশ হলেও থামেনি আন্দোলন।
শেষের পথে আন্দোলন, ঘরে ফেরার প্রস্তুতি কৃষকদের
দীর্ঘ আন্দোলনে ৭০০ এর অধিক মৃত কৃষকদের পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণের দাবীতে সরব হন আন্দোলনরত কৃষকরা। একইসঙ্গে এমএসপির সুনিশ্চিতকরণ, বিদ্যুৎ আইন প্রত্যাহার সহ একাধিক দাবী সামনে রেখে আন্দোলন জারি রাখার কথা জানান কৃষকরা। বেগতিক বুঝে কৃষকদের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোতে রাজি হয় সরকার। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার তরফে ৫ জনের প্রতিনিধি দলের তরফে চলে লাগাতার কথাবার্তা।
বৃহস্পতিবার ছবিটা একেবারে আলাদা। দিল্লি সীমান্তে ধীরে ধীরে গুটিয়ে ফেলা হল আন্দোলনের তাঁবু। ঘরে ফেরার প্রস্তুতি কৃষকদের।







