বাফটার মঞ্চে ইতিহাস ‘বুং’-এর! ফারহান আখতারের ছবির বিশ্বজয়, শুভেচ্ছায় ভাসালেন মমতা ও মোদী

বাফটা অ্যাওয়ার্ডে ‘বেস্ট চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম’ বিভাগে জিতল ফারহান আখতার প্রযোজিত মণিপুরী ছবি ‘বুং’। অভিনন্দনে ভাসালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রধানমন্ত্রী মোদী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতীয় সিনেমার জন্য গর্বের মুহূর্ত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবারও উজ্জ্বল হয়ে উঠল দেশের সৃজনশীল শক্তি। লন্ডনে অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ একাডেমি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস (BAFTA)-এর আসরে ‘বেস্ট চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি ফিল্ম’ বিভাগে পুরস্কার জিতে নজির গড়ল ফারহান আখতার প্রযোজিত মণিপুরী ছবি ‘বুং’। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর ছবির গোটা টিমকে অভিনন্দনে ভরিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

২৩ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে আয়োজিত বাফটা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বলিউড ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের বহু তারকার উপস্থিতিতে ঘোষিত হয় বিজয়ীদের নাম। মেগা বাজেটের আন্তর্জাতিক ছবিগুলিকে পিছনে ফেলে শান্ত, সংবেদনশীল গল্পের উপর নির্মিত ‘বুং’-এর জয় ভারতীয় সিনেমার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র মহল।

মমতার শুভেচ্ছা বার্তা

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, বাফটার মঞ্চে মণিপুরী ছবির এই সাফল্যে তিনি অভিভূত। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রথম কোনও ভারতীয় ছবি শিশু ও পরিবারভিত্তিক বিভাগে এই সম্মান অর্জন করল এবং গোটা দল বিশ্বমঞ্চে দেশকে গর্বিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ছবির সাফল্যে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর বক্তব্য, ‘বুং’-এর এই অর্জন শুধু সিনেমার সাফল্য নয়, বরং ভারতের সৃজনশীল প্রতিভার বিশ্বস্বীকৃতি। বিশেষ করে মণিপুরের জন্য এটি আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ছবির নেপথ্যের মানুষ

ছবিটি পরিচালনা করেছেন লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফারহান আখতার, তাঁর স্ত্রী, পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী এবং প্রযোজক রিতেশ সিধওয়ানি। সীমিত বাজেটের এই ছবি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় বাজেটের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়।

কী গল্প ‘বুং’-এর?

মণিপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট্ট ছেলে বুংকে কেন্দ্র করে ছবির গল্প। মায়ের জন্মদিনে হারিয়ে যাওয়া বাবাকে ফিরিয়ে এনে তাঁকে চমকে দেওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। পরিবারকে আবার একত্রিত করার সেই শিশুসুলভ ইচ্ছা ও আবেগের যাত্রাই ছবির মূল সুর—যা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছে বিশ্বজুড়ে।

শান্তির বার্তা পরিচালকের

পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগঘন বক্তৃতায় পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী মণিপুরে শান্তি ফেরার প্রার্থনা জানান। তিনি বলেন, শিশুরা যেন আবার স্বাভাবিক শৈশব ফিরে পায়—এই স্বীকৃতি তাঁদের কাছে শুধু পুরস্কার নয়, আশার আলো।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন