সপ্তম পে কমিশন না বকেয়া ডিএ—কোথায় বাড়বে বেতন? হিসাব কষছেন সরকারি কর্মীরা

সপ্তম পে কমিশনের প্রতিশ্রুতি ও বকেয়া ডিএ মামলার জট—দুইয়ের টানাপোড়েনে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও হিসাবের অঙ্ক

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র জল্পনা—বেতন বাড়বে কি সপ্তম পে কমিশনে, নাকি মিলবে বহু প্রতীক্ষিত বকেয়া ডিএ? প্রতিশ্রুতি, আদালতের নির্দেশ এবং বাস্তব আর্থিক চিত্র—সব মিলিয়ে এখন বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য অঙ্ক কষতে ব্যস্ত নবান্ন থেকে জেলা অফিসের কর্মীরা।

নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি ছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন গঠন করা হবে। ফলে কর্মীদের বড় অংশ এখন সেই দিকেই তাকিয়ে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বকেয়া ডিএ-র মামলাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বকেয়া ডিএ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ কোনও দয়ার অনুদান নয়, এটি কর্মীদের ন্যায্য অধিকার। পাশাপাশি ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া মেটানোর কথাও বলা হয়। যদিও সাম্প্রতিক শুনানির আগে রাজ্যের তরফে সময় চেয়ে আবেদন করায় মামলার অগ্রগতি কিছুটা পিছিয়েছে।

এদিকে, সপ্তম পে কমিশন চালু হলে বেতন কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসবে। এর মূল ভিত্তি ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’—যার মাধ্যমে বর্তমান বেসিক পে-কে একটি নির্দিষ্ট গুণকে গুণ করে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ধরা হলে ১০,০০০ টাকার বেসিক পে এক লাফে ২৫,৭০০ টাকায় পৌঁছতে পারে। একইভাবে, ২০,০০০ টাকার বেসিক পে বেড়ে প্রায় ৫১,৪০০ টাকা হতে পারে—যা কর্মীদের কাছে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

তবে ডিএ প্রসঙ্গেও ধোঁয়াশা কাটেনি। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ফারাক প্রায় ৪২ শতাংশ। রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে ১ এপ্রিল থেকে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হলেও, তার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ এখনও জারি হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—নতুন সরকার কি সেই ৪% ডিএ কার্যকর করবে, নাকি সরাসরি কেন্দ্রের হারে ডিএ বা পে কমিশনের পথে হাঁটবে?

কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে আশাবাদ থাকলেও সতর্কতাও রয়েছে। একাধিক সংগঠনের মতে, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার পর এবার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় এসেছে। আবার অনেকেই মনে করছেন, আগের সিদ্ধান্তগুলি পুনর্বিবেচনা করে নতুন সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়—সরকারি নির্দেশিকার অপেক্ষা, নিজের বেতনের সঠিক হিসাব রাখা এবং আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রাখা। কারণ শেষ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ভর করছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত