রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউডে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। ফেডারেশনের সভাপতি নেই, স্ক্রিনিং কমিটিও কার্যত অচল। ফলে বাংলা ছবির মুক্তি, শুটিং কিংবা ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবার কার অনুমতিতে চলবে, সেই প্রশ্নেই সরগরম টালিগঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে টলিউডে প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর অনুপস্থিতিতে কি বাংলা বিনোদন জগৎ নতুন করে স্বাধীন হতে চলেছে? নাকি তৈরি হবে আরও বড় প্রশাসনিক শূন্যতা—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই টালিগঞ্জে বদলের হাওয়া স্পষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারিয়েছে। নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস একই সঙ্গে গত বছরই শেষ হয়েছে ফেডারেশনের সভাপতি স্বরুপ বিশ্বাস এর মেয়াদ।


এর ফলে বর্তমানে কার্যত সভাপতিহীন অবস্থায় রয়েছে ফেডারেশন। এতদিন প্রযোজকরা শুটিং থেকে ছবিমুক্তি—সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করতেন। পাশাপাশি অস্তিত্ব হারিয়েছে তথাকথিত স্ক্রিনিং কমিটিও, যা বাংলা ছবির মুক্তির সময়সূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত।
বিশেষ করে পুজো বা বড় উৎসবের সময়ে একসঙ্গে একাধিক বাংলা ছবি মুক্তি আটকাতেই এই কমিটি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই কমিটি না থাকায় অনেকেই মনে করছেন, পুরনো স্বাধীন ব্যবস্থাই আবার ফিরতে পারে।
প্রযোজক ফিরদৌসল হাসান বলেন, “ইন্ডাস্ট্রির বয়স একশো বছরেরও বেশি। আগে প্রযোজকেরা নিজেরাই ছবিমুক্তির সিদ্ধান্ত নিতেন। সম্ভবত আবার সেই ব্যবস্থাই ফিরবে।” যদিও তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।


একই সুর শোনা গিয়েছে ইমপা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের কথাতেও। তাঁর মতে, স্ক্রিনিং কমিটি না থাকলেও ইন্ডাস্ট্রি চলবে। কারণ অতীতেও এমন ব্যবস্থাতেই কাজ হয়েছে।
এই বিতর্কে আগেই সরব হয়েছিলেন অভিনেতা-সাংসদ দেব। তাঁর বক্তব্য ছিল, কোনও কমিটি ঠিক করে দিতে পারে না কোন প্রযোজক কবে ছবি মুক্তি দেবেন। বরং কমিটি তৈরি হওয়ার পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে অশান্তি বেড়েছে বলে মত দেবের।
এদিকে প্রযোজক রানা সরকার জানিয়েছেন, শুটিংয়ের জন্য আলাদা করে রাজনৈতিক অনুমতির প্রয়োজন হয় না। কলকাতার মধ্যে কাজ হলে নিয়ম মেনেই সব হয়। একই বক্তব্য ছোটপর্দার প্রযোজক স্নিগ্ধা বসুরাও। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণেই বাইরের প্রযোজকেরা বাংলায় শুটিং করতে আগ্রহ হারাচ্ছিলেন।
পরিচালক পৃথা চক্রবর্তী অবশ্য মনে করছেন, কোনও না কোনও প্রশাসনিক কাঠামো থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, নিয়ম ও শৃঙ্খলা থাকলে কাজের পরিবেশও সুস্থ থাকে।
ফেডারেশনের অন্দরে ইতিমধ্যেই নতুন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভেন্ডার গিল্ডের সম্পাদক সৈকত দাস। তাঁর দাবি, সভাপতির পদ শূন্য থাকলেও সহ-সভাপতি এবং কার্যকরী কমিটির সদস্যরা কাজ সামলাচ্ছেন। ফলে আপাতত বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তবে টলিউডের অন্দরমহলে এখন একটাই প্রশ্ন—নতুন নেতৃত্বে কি সত্যিই ‘স্বাধীন’ হবে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি, নাকি আবারও তৈরি হবে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র?







