অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম দিনেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়াল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে। বুধবার ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ক নাকি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, “আমরা স্বাধীনতা পেলাম।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। তবে কি শাসকদলের অন্দরে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত? বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েই কি বার্তা দিলেন শুভেন্দু? রাজনৈতিক মহলে এখন ঘুরছে সেই প্রশ্নই।
শুভেন্দু অধিকারী বুধবার ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন। এরপর বিধানসভা কক্ষের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি নাম না করে বলছি, তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক আমায় বলেছেন যে আমরা স্বাধীনতা পেলাম।”


যদিও তিনি কোনও বিধায়কের নাম প্রকাশ করেননি, তবু তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর শাসকদলের অন্দরে অসন্তোষের ইঙ্গিতই তুলে ধরতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিগত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো চলছিল, তৃণমূলের কয়েক জন বিধায়ক বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। শুভেন্দুর মন্তব্য সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বিধানসভায় কোনও কিছু গোপন থাকবে না।” তাঁর এই মন্তব্যকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিরোধীদের অভিযোগ, অতীতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আড়ালে রাখা হত। নতুন সরকার সেই সংস্কৃতি বদলাতে চাইছে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু।


২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক স্তরে একের পর এক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে বিজেপি সরকার। সেই আবহেই শুভেন্দুর এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত শুভেন্দুর মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।







