পালাবদলের পরেই বড় পদক্ষেপ—এসএসসি কেলেঙ্কারিতে ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত চাকরিহারাদের বেতন আদায়ে সক্রিয় হল রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে এবার সরাসরি জেলাশাসকদের চিঠি পাঠাল স্কুল শিক্ষা দফতর, যেখানে দ্রুত টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে খবর, প্রায় এক বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল—যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের শুধু চাকরি বাতিলই নয়, প্রাপ্ত বেতনও সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ দীর্ঘদিন বাস্তবায়িত হয়নি বলেই অভিযোগ। নতুন সরকারের আগমনের পর সেই প্রক্রিয়াকেই এবার গতি দিতে উদ্যোগী প্রশাসন।


সম্প্রতি শিক্ষা দফতর থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অযোগ্য(Tainted) হিসেবে চিহ্নিত প্রার্থীদের কাছ থেকে কীভাবে বেতন আদায় করা যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে আইনি ও আর্থিক পদ্ধতি অনুসরণ করে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
SSC দাগি শিক্ষকদের সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে, জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ শিক্ষা দফতরের

এই প্রসঙ্গে ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির মামলা নতুন করে সামনে এসেছে। গত ৩ এপ্রিলের ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট পুরো প্যানেল বাতিল করে দেয়, যার ফলে প্রায় ২৫,৭৩৫ জনের চাকরি একযোগে খারিজ হয়। ২০১৬–এ এসএসসি–র শিক্ষক নিয়োগে প্রতিষ্ঠানিক অনিয়মের ঘটনায় ১,৮০৬ জন শিক্ষক ও ৩,৫১২ জন শিক্ষাকর্মীকে ‘দাগি’ বা ‘টেন্টেড’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা ভবিষ্যতের কোনও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না এবং তাঁদের প্রাপ্ত বেতন ফেরত দিতে হবে।
তবে এতদিন পর্যন্ত সেই বেতন আদায়ের ক্ষেত্রে কার্যত কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বরং পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তারা অযোগ্যদের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেছে এবং বিষয়টি দীর্ঘসূত্রিতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।


বর্তমান প্রশাসন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। বিশেষ করে যাঁরা দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আর কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে, ‘অযোগ্য’ চাকরিহারাদের তরফে নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এপ্রিল মাসের বেতন ও নতুন নিয়োগে অংশগ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই মামলাতেও সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের দাবিকে খারিজ করে দেয়, ফলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আইনি নির্দেশ কার্যকর করতে এবার প্রশাসন সরাসরি মাঠে নামায় অযোগ্যদের বেতন ফেরত প্রসঙ্গে নতুন করে চাপ তৈরি হল। এখন দেখার, জেলাস্তরে এই প্রক্রিয়া কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।







