টুটু বোসকে শেষ বিদায়, শোকবার্তা মমতা-অভিষেক-শুভেন্দুর, শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে উপস্থিত বিমান

প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোস। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মোহনবাগান ক্লাব ও বাসভবনে উপচে পড়ল ভিড়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন বসু, যিনি টুটু বোস নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে বাংলা ক্রীড়াজগৎ থেকে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বালিগঞ্জের বাসভবনে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, প্রাক্তন ফুটবলার, রাজনৈতিক নেতা এবং অসংখ্য মোহনবাগান সমর্থক। পরে তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় প্রিয় ক্লাব মোহনবাগানে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

মোহনবাগান ক্লাবে পৌঁছতেই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের ঢল নামে। দীর্ঘদিন ক্লাবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা টুটু বোসকে শেষবার দেখতে হাজির হন অগণিত ভক্ত।

এদিন সিএবি প্রথম ডিভিশন চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচেও তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সল্টলেক ক্যাম্পাসে মোহনবাগান বনাম টাউন ক্লাব ম্যাচের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন ক্রিকেটাররা।

বালিগঞ্জের বাসভবন থেকে প্রথমে তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় সংবাদ প্রতিদিন দপ্তরে। সেখানে সংবাদপত্রের কর্মীরা শ্রদ্ধা জানান। পরে ভবানীপুর ক্লাবেও নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।

টুটু বোসের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক, মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সচিব, প্রাক্তন সভাপতি এবং প্রাক্তন সাংসদ স্বপন সাধন বসু (টুটু বসু)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।”

শোকবার্তা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি টুটু বোসের প্রয়াণকে মোহনবাগান পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন।

শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাসভবনে যান ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “টুটুদার অবদান লিখে শেষ করা যাবে না। মনখারাপ হলে ওঁর কাছে এলে উচ্ছ্বসিত হয়ে যেতাম।”

বিমান বসুও উপস্থিত হয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তাঁর কথায়, “টুটুর মতো খোলা মনের মানুষ আজকাল খুব কম দেখা যায়।”

মুনমুন সেন, রাইমা সেন, স্বপন দাশগুপ্ত এবং প্রাক্তন ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্যও শেষ শ্রদ্ধা জানান টুটু বোসকে। সুব্রত বলেন, “মোহনবাগানের জন্য উনি যা করেছেন, তা ভোলার নয়।”

পরিবারের তরফে নাতি অরিঞ্জয় বোস জানান, “দাদু ছিলেন পরিবারের বটবৃক্ষ। রাজার মতোই জীবন কাটিয়েছেন, চলে যাওয়াটাও তেমনই রাজকীয়।”

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও শোকবার্তা দিয়েছেন। শুভেন্দু তাঁর বার্তায় লেখেন, “মোহনবাগান ক্লাব ও টুটু বোস একে অপরের পরিপূরক ছিলেন।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত