শনিবার থেকেই রাজ্যজুড়ে পুলিশি ঝড়! মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অস্ত্র উদ্ধারে কড়া অভিযান

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে শনিবার থেকে রাজ্যজুড়ে অভিযান, প্রতিদিন রিপোর্ট বাধ্যতামূলক; ২০২১-পরবর্তী হিংসার মামলাও নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই প্রশাসনে কড়া বার্তা—অবৈধ অস্ত্র ও হিংসা রুখতে আগামী শনিবার থেকেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে পুলিশ, নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিদিনের রিপোর্টিং থেকে শুরু করে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত মূল্যায়ন—পুরো প্রক্রিয়ায় নজরদারির কঠোর কাঠামো তৈরি করেছে নবান্ন।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবারই পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই স্পষ্ট বার্তা ছিল—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনওরকম শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না, পুলিশকে “হাত খুলে কাজ করার” নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরই রাজ্যের প্রতিটি থানায় পৌঁছে যায় বিস্তারিত নির্দেশিকা।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য অবৈধ অস্ত্র, বোমা ও গোলাবারুদ উদ্ধার। প্রতিটি থানাকে প্রতিদিনের অভিযানের রিপোর্ট দিতে হবে—কোথায় অভিযান হল, কী উদ্ধার হল, কতজনকে গ্রেফতার করা হল—সবকিছু নথিবদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, দুই সপ্তাহ পরে শীর্ষস্তরে জমা দিতে হবে একটি সামগ্রিক রিপোর্ট, যেখানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিস্তারিত হিসেব থাকবে।

এখানেই শেষ নয়, থানার মালখানায় মজুত থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদের নির্ভুল হিসেব মিলিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রেজিস্টারে যা নথিভুক্ত, বাস্তবে তার সঙ্গে মিল রয়েছে কি না—তা যাচাই করে ১৫ মে-র মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অতীতের হিংসাত্মক ঘটনার পুনর্মূল্যায়ন। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর সংঘটিত হিংসার মামলাগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে পুনরায় তদন্ত শুরু করারও নির্দেশ রয়েছে, এবং এই সংক্রান্ত আলাদা রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের মনোভাব যে বদলেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর কথায়, থানায় অভিযোগ জানাতে এলে আর এফআইআর নিতে অস্বীকার করার দিন শেষ। সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে সামনে আসার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। এমনকি, “রাত ৮টার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে”—এই ধরনের সামাজিক চাপের বার্তাও আর দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন মন্ত্রী।

সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক স্তরে চাপ বাড়ানো হচ্ছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত