রাজ্যের প্রশাসনে ঢিলেমি আর নয়—এই বার্তাই স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি কর্মীদের সকাল ১০টা ১৫-র মধ্যে দপ্তরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক এবং বিকেল ৫টা ১৫-র আগে অফিস ত্যাগ করা যাবে না। কর্মসংস্কৃতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাইটার্স বিল্ডিং থেকে জারি হওয়া এই বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে জোর আলোড়ন তুলেছে।
মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারির সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিটি দপ্তরের কাজ যাতে নিরবচ্ছিন্ন ও সময়মতো সম্পন্ন হয়, তার জন্যই এই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে—মাঝে অকারণে দপ্তর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া বা সময়ের আগেই কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার প্রবণতা আর বরদাস্ত করা হবে না।


সকাল ১০:১৫-তেই হাজিরা বাধ্যতামূলক, ৫:১৫-এর আগে বেরোনো নিষেধ! সরকারি কর্মীদের জন্যে জারি বিজ্ঞপ্তি

গত কয়েক বছরে রাজ্যের সরকারি দপ্তরে কাজের ধরনে নানা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বাম আমলে সরকারি কাজের গতি নিয়ে জনমানসে যে ‘আঠেরো মাসে বছর’ ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আমলে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়লেও ছুটির সংখ্যা ও সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছিল।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই কর্মসংস্কৃতিকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়েই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। একাধিক দপ্তরে কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট সময় ধরে উপস্থিতি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। সূত্রের খবর, এই নিয়ম দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্দেশ কার্যকর হলে সরকারি দপ্তরের কাজের গতি বাড়তে পারে। তবে কর্মীদের মধ্যে এই কড়াকড়ি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটাই এখন দেখার।


সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



