নজরবন্দি ব্যুরো: জোর কদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে সব দলই। হুইল চেয়ারে বসে নির্বাচনী প্রচার করছেন রাজ্যের আহত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জঙ্গলমহলে নজর রেখে একের পর এক সভা করছেন তিনি। গতকালই সভা করেছেন মেদিনীপুরের তিন জায়গায়। প্রতি সভা মঞ্চ থেকেই যেমন জনগণকে বার্তা দিয়েছেন তৃতীয় বার ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষের জন্য কী কী করবে তৃণমূল কংগ্রেস, তেমনি প্রতি সভা থেকে তোপ দেগেছেন বিজেপি সরকারকেও।
আরও পড়ুনঃ প্রচারে বেরিয়ে ভবানীপুরে প্রবল বিক্ষোভের মুখে বাবুল সুপ্রিয়।


বিজেপি শুধু মিথ্যে কথার ভান্ডার এবং তা থেকে রাজ্যকে বাঁচাতে বাংলার মা বোনদের হাতা খুন্তি নিয়ে দাঁড়িয়েও থাকতে বলেছেন তিনি। গতকালের তিনটি সভার পর আজ এগরায় সভা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও সভা করবেন পটাশপুর এবং মেচেদায়। এগরায় মুখ্যমন্ত্রীফের তোপ দেগেছেন বিজেপির প্রতি। তিনি জানিয়েছেন, যদি কেউ মনে করে কিছু গদ্দার নিয়ে এসে তারা মানুষের উপর অত্যাচার করবে। অনেক সহ্য করেছি। অনেক অন্ধ ভালবাসা দিয়েছি। তার পরিণামে ওরা যা আমায় দিয়েছে, জেনে রাখুন আমি এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না। ওরা মুখে বলে হরি হরি, আর পিছনে ডাকাতি করি। বাংলা ওদের জায়গা নয়। বাংলায় বিজেপি আসার প্রেক্ষিতে তিনি এও বলেন, বিজেপি যদি আসে চোটের থেকেও বড় আঘাত।
আমার মা-বোনেরা কেউ ঘরবাড়িতে থাকতে পারবে না। ওদের হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতে হবে। প্রসঙ্গত তিনি গতকয়েকদিন আগে নন্দীগ্রামে গিয়ে আহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমাকে আগেও সিপিএম মেরেছে। আমার এই দুটো হাত ভাঙা। আমার কোমরে, পেটে, চোখে মেরেছে। পা-টা শুধু বাকি ছিল। নির্বাচন সামনে। ভাবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেরোতে দেব না। পা-টা চোট করে দিই। নরেন্দ্র মোদীর সরকার, মনে রাখবেন, একটা দাঙ্গাবাজ সরকার, একটা ইনকপিটেন্ট সরকার, একটা করাপেটড সরকার। লুঠ, দাঙ্গা, মানুষ খুন, বিজেপি-র তিনটে গুণ। তাই ওদের একটা ভোটও নয়। ওরা দাঙ্গা করে, ওরা দুর্নীতি করে। ৫০০ টাকা চুরি করলে ওটা চোখে দেখা যায়। আর লক্ষ লক্ষ টাকা চুরি করলে সেটা চোখে দেখা যায় না।
ওটা ভ্যানিশ হয়ে যায়। একদিকে নির্বাচনী প্রচারে বাংলায় এসে বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা বার বার বলে যাচ্ছেন বাংলার নারীসুরক্ষা নিয়ে, তাঁদের মতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিজে একজন নারী গিয়া সত্ত্বেও বাংলায় নারী সুরক্ষা নেই। আর আজ এগরার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে তোপ দেগেছেন একই বিষয়ে, “জিজ্ঞাসা করুন আপনাদের দলে মহিলারা সুরক্ষিত। কত মা-বোনেদের কত অভিযোগ আছে বিজেপি-র বিরুদ্ধে।” তিনি আরো বলেন, “মনে রাখবেন যাঁরা গদ্দার, মিরজাফর তাঁরা আজকে বিজেপি-র প্রার্থী। বিজেপি-র পুরনো প্রার্থীরা আদ ঘরে বসে কাঁদছে। আর কিছু সিপিএমের হার্মাদ, আর কিছু তৃণমূল থেকে চোর-চোরটা চিটিংবাজ কয়েকটা গিয়েছে, এখানে গিয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছে।” শিক্ষকদের সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়ানো হবে।


চাকরি নিয়ে অনেকে আগে গদ্দারি করেছে। চিন্তা করবেন না, এ বার কাজকর্ম সরাসরি হবে। কারও মাধ্যমে হবে না। ক্ষমতায় এলে আগামী দিনে আরও ২৫ লক্ষ গরিব লোককে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া ক্ষমতায় এলে রাজ্যবাসীর জন্য আগামী দিনে কী কী করবেন তার খতিয়ান দেন তিনি। দিঘাতে কনভেনশন সেন্টার, ইকো ট্যুরিজম করে হয়েছে, ভবিষ্যতে জগন্নাথের মন্দির হবে বলেও জানিয়েছেন। আরো বলেন, “আগামী দিন দিঘায় তাজপুরে বন্দর তৈরি করে দিচ্ছি। এই বন্দর হলে কয়েক লক্ষ বেকার ছেলেমেয়েরা সুযোগ পাবেন।” ছোট শিল্পের জন্য বছরে ১ লক্ষ কোটি টাকা করে বিনিয়োগ করার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। ৫ বছরে ৫ লক্ষ কোটি টাকা। লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়র চাকরির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সঙ্গে কন্যাশ্রী রুপশ্রী প্রকল্পের কথাও তুলে এনে বলেন, ” আগে মা বাবাদের আগে চিন্তা করতে হত মেয়েদের বিয়ের জন্য। এখন আমরা মেয়েদের ১৮ বছর হলে কন্যাশ্রী করলেই ২৫ হাজার টাকা দিই আমরা।
রূপশ্রীতেও ২৫ হাজার টাকা পায়। এ বার আমরা ছাত্রছাত্রীদের জন্য বছরে ১০ লক্ষ টাকার অ্যাকাউন্ট করে দেব। মাত্র ৪ শতাংশ সুদের হারে। বাবা-মাকে তাঁর পড়াশোনার খরচ চালাতে হবে না। পড়ুয়ারা উঁচু ক্লাসে যখন উঠবেন ১০ হাজার টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে। নবম শ্রেণিতে উঠলে সবজু সাথীর সাইকেল পাবে পড়ুয়ারা প্রতি বছর। সব মহিলাদের ৫০০ টাকা করে হাতখরচ দেবে আমাদের সরকার। ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প চালু করব।”







