খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই? শুনানির ডাকও আসেনি? কী করবেন জানুন এখনই

খসড়া তালিকা প্রকাশের পর শুরু হল অভিযোগ, শুনানি ও যাচাই—ধাপে ধাপে কী করবেন, স্পষ্ট নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুরু হল নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—অভিযোগ, শুনানি ও ভেরিফিকেশন। তালিকায় নাম নেই, ঠিকানা ভুল, বা শুনানির ডাক না পেলে কী করবেন—এই প্রশ্ন ঘুরছে লক্ষ লক্ষ ভোটারের মনে। কমিশন এবার একাধিক স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে আগামী এক মাস ধরে ভোটাররা BLO-র কাছে খসড়া তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন। এই পুরো প্রক্রিয়া চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

খসড়া ভোটার তালিকায় কত জনের নাম রয়েছে?

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী,
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের খসড়া ভোটার তালিকায় রয়েছে
৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১ জন ভোটার

তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে—
👉 খসড়া তালিকায় নাম থাকা মানেই চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকবে, এমন নয়।
👉 আগামী প্রায় দুই মাস ধরে চলবে চুলচেরা যাচাই

অভিযোগ ও শুনানির সময়সীমা কী?

কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী—

  • ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আপত্তি বা অভিযোগ জানানো যাবে

  • ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে শুনানি ও ভেরিফিকেশন

  • ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা

এই কাজের জন্য জেলায় জেলায় স্কুলের ঘর ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আগেই চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন।

কারা শুনানিতে ডাক পাবেন?

খসড়া তালিকা তিন ধরনের ম্যাপিংয়ের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে—

  1. Progeny Mapping

  2. Self Mapping

  3. No Mapping (Unmapped)

কমিশন সূত্রে খবর—

  • Progeny ও Self Mapping-এ যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের শুনানিতে ডাকার সম্ভাবনা কম

  • প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটার Unmapped তালিকায়

  • আরও ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে

এই দুই ক্ষেত্রেই কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে, কাদের শুনানিতে ডাকা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন–উত্তর (ভোটারদের জন্য গাইড)

খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই—কী করবেন?

ফর্ম ৬ (Annexure 4) পূরণ করে জমা দিতে হবে।

শুনানিতে কীভাবে ডাকা হবে?

BLO বাড়িতে গিয়ে নোটিস পৌঁছে দেবেন

২০০২ সালের অংশ ফিলআপ করতে না পারলে কি শুনানিতে ডাক পাবেন?

হ্যাঁ, সবাইকে শুনানিতে ডাকা হবে।

আধার ছাড়া কোন নথি শুনানিতে নিতে হবে?

নিচের যে কোনও একটি নথি বাধ্যতামূলক—

  • সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীর পরিচয়পত্র

  • ১ জুলাই ১৯৮৭-র আগে ব্যাঙ্ক/পোস্ট অফিস/LIC নথি

  • জন্ম সার্টিফিকেট

  • পাসপোর্ট

  • মাধ্যমিক বা তার পরের সার্টিফিকেট

  • বাসস্থান সার্টিফিকেট

  • ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট

  • জাতিগত সার্টিফিকেট

  • ফ্যামিলি রেজিস্টার

  • সরকারি জমি বা বাড়ি বরাদ্দের নথি

নাম নেই, অথচ শুনানির নোটিসও আসেনি—তখন?

✅ আবারও ফর্ম ৬ (Annexure 4) দিয়ে নাম তোলার আবেদন করতে হবে।

নাম ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে মিললেও কি শুনানিতে ডাক আসতে পারে?

হ্যাঁ, ERO প্রয়োজন মনে করলে ডাকতে পারেন।

নাম বা ঠিকানা ভুল থাকলে কী করবেন?

ফর্ম ৮ পূরণ করতে হবে।

শুনানির দিন বদলানো যাবে?

ERO-র কাছে আবেদন করলে বদলানো যেতে পারে।

অসুস্থ হলে শুনানিতে যেতে না পারলে?

✅ কমিশন চাইলে ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা করতে পারে।

শুনানির ফল কীভাবে জানবেন?

✅ ডাকযোগে সিদ্ধান্ত জানানো হবে
✅ এনুমারেশন ফর্মে দেওয়া নম্বরে SMS আসবে

জাল নথি দিলে কী শাস্তি?

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে—
👉 BNS ধারা ৩৩৭ অনুযায়ী
👉 সর্বোচ্চ ৭ বছর জেল ও জরিমানা হতে পারে

কেন নাম বাদ পড়তে পারে?

কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী—

  • ভোটারের মৃত্যু

  • ফর্ম জমা না দেওয়া

  • ডুপ্লিকেট ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হওয়া

এই ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কত জনের নাম থাকবে, আর কত জন বাদ পড়বেন—সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত