বর্ধমান-দুর্গাপুর আসন থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ভোটে পরাজিত হয়ে আপাতত নিজেকে ‘গৃহবন্দি’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, তাঁকে হারানোর দলেই ‘চক্রান্ত’ হয়েছিল। সরাসরি কারও নাম না-করলেও তিনি মনে করেন, ‘কাঠিবাজি’ করেই তাঁর আসন বদলে দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণেই তাঁকে হারতে হয়েছে। বুধবার দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘আমি হারিনি। বিজেপি হেরেছে।’’ একই সঙ্গে বলেন, ‘‘আমাকে যে কাঠি করে মেদিনীপুর থেকে সরানো হয়েছে, সেটা তো সকলেই জানে! মাঝখান থেকে আমাকে হারাতে গিয়ে মেদিনীপুর আসনটাও হাতছাড়া হয়ে গেল!’’
দুর্বল বিজেপিকে রাজ্যে সফল করে তুলেছিলেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরে তার নেতৃত্বে সমর্থন বাড়তে থাকে বিজেপির প্রতি। ২০১৯ লোকসভা আসনে ২ থেকে ১৮ তে পৌছে যায় সাংসদ সংখ্যা। নিজে জয়ী হয়ে বাকি ১৭ প্রার্থীকে জেতাতে বড় ভূমিকা নেন দিলীপ ঘোষ। কিন্তু ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই পট পরিবর্তন শুরু হয়। ২০২১ সালে ১৯৫৬ ভোটে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা বন্দোপাধ্যায় কে হারানোর পরে শুভেন্দুকে বিরোধী দলনেতা বানায় দল। এরপর ক্রমশ হুঙ্কার বাড়তে থাকে শুভেন্দু অধিকারীর।

মমতা বন্দোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দোপাধ্যায় কে কড়া ভাষায় আক্রমণ আর শাসক দলকে হুঙ্কার দেওয়া ছাড়া তেমন কিছু করতে পারেননি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। নিজের গড় পূর্ব মেদিনীপুরের দুটো আসন বিজেপি জিরলেও জয়ের ব্যবধান কম। রাজ্যে কমে গিয়েছে এক ধাক্কায় ৬ টি আসন। ১২ আসনের মধ্যে বেশ কয়েকটি আসনে জয় হয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি জেতার মত মার্জিনে। তাই শিভেন্দু-কে সরিয়ে দিলীপের হাতে ফের একবার ক্ষমতা তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে বিজেপি বলে খবর দিল্লী সূত্রে।
ফাইল খুলছে নারদার, শুভেন্দু কে দিয়ে শুরু, হাল ফেরাতে দিলীপ ঘোষই ভরসা বিজেপির।

সূত্রের খবর, এই রাজ্যে তৃণমূল থেকে যোগ দেওয়া যে নেতাদের বিজেপি মাথায় তুলে রেখেছে এবং যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তদন্ত ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে সেই তদন্তের ফাইল এনডিএ সরকার আসার পর ফের খুলতে চলেছে। নিজেদের ইমেজ ক্লিন রাখার জন্যে দল মত নির্বিশেষে চলবে তদন্ত। যে নারদে শুভেন্দু ছিলেন, সেই নারদের ফাইল আবার রি-ওপেন করা হবে।
সুকান্ত মজুমদার নেতৃত্ব হিসেবে দুর্বল হলেও তাঁর স্বচ্ছতা আর ভদ্রতা প্রশ্নাতীত। সেক্ষেত্রে তাঁকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে বলে খবর। সূত্রের দাবি দিলীপ ঘোষকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ করে ২০২৬ নির্বাচন লড়বে বিজেপি। এখন সরকারি ভাবে কি সিদ্ধান্ত নেয় সর্বভারতীয় বিজেপি সেটাই দেখার। আজ শুভেন্দু, সুকান্ত সহ বাকি ১১ জয়ী প্রার্থীকে কেন্দ্রে তলব করা হয়েছে আলোচনার জন্যে।



