নজরবন্দি ব্যুরোঃ মোদীকেই দেখতে গিয়েছিলেন দিব্যেন্দু জায়া, ফিরে এসে স্ত্রী বললেন, শুভেন্দু ভগবান! জোর জল্পনা ছিল দিব্যেন্দু অধিকারী কে নিয়ে, তবে আজকের মতো আনুষ্ঠানিক ভাবেই বাকি একজন বাকি রয়ে গেলেন গেরুয়া শিবিরে যেতে। আজ মোদীর সভায় উপস্থিত থাকলেন না তিনি। তবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী। বাড়ির বড় ছেলে আগেই তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। অন্যদিকে কিছুদিন আগে বাড়ির প্রবীণতম সদস্যও যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র হাত ধরে গত ২১শে মার্চ ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেছেন শুভেন্দু অধিকারীর বাবা তথা কাঁথির তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শিশির অধিকারী।
আরও পড়ুনঃ ভোটের ফলাফল অপেক্ষার, তবে সম্পত্তিতে সব্বাইকে টেক্কা দিলেন হিরণ


ছোট ছেলে সৌম্যেন্দু অধিকারীও বাবা দাদার পথেই বিজেপিতে। বাকি রয়েছে বাড়ির মেজ ছেলে দিব্যেন্দু। তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেই একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে। এদিকে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই অধিকারী গড়ে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শোনা গিয়েছিল আজকে কাঁথিতে প্রধানমন্ত্রীর সভায় উপস্থিত থাকতে পারেন তমলুকের তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীও। প্রধানমন্ত্রীর সভায় তাঁর যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েও ছিলেন দিব্যেন্দু অধিকারী। সকলেই মনে করেছিলেন আজ প্রধানমন্ত্রীর সভায় দিব্যেন্দু অধিকারী এলে বিজেপিতে যোগদানের বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে অধিকারী পরিবারের
কিন্তু সব জল্পনাকে জিইয়ে রেখে প্রধানমন্ত্রীর সভায় দেখা গেল না দিব্যেন্দু অধিকারীকে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে দর্শকাসনে দেখা গেল তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীর স্ত্রীকে। তিনি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সভায় গরহাজির নিয়ে দিব্যেন্দু অধিকারী কিছু না বললেও তাঁকে নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই গেল। প্রসঙ্গত ২৬ বছরের দীর্ঘ তৃণমূল- অধিকারী পরিবার সম্পর্কের একমাত্র যোগসূত্র এখন দিব্যেন্দু। তিনি দল ছাড়লেই প্রায় তিন দশকের সম্পর্কের অবসান হবে। শিশির অধিকারীর ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদানের পর তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির সাংসদ সংখ্যা এখন সমান সমান। সেক্ষেত্রে দিব্যেন্দু অধিকারী যদি গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেন তাহলে এগিয়ে যাবে বিজেপি।
মোদীকেই দেখতে গিয়েছিলেন দিব্যেন্দু জায়া, ফিরে এসে স্ত্রী বললেন, শুভেন্দু ভগবান! তবে দিব্যেন্দ কেনো গেলেন না আজকের সভায়? একটি সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ‘দু-একদিনের মধ্যেই সমস্ত বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যাবে।’ অন্যদিকে আজই নন্দীগ্রামে সভা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং তুমুল আক্রমণ শানিয়েছেন অধিকারী পরিবারকে উদ্দেশ্য করে। তা নিয়েও দিব্যেন্দু বলেছেন, ‘শুধু উনি (অভিষেক) কেন, অন্য যে কাউকে নিয়ে এলেও যা ফল হবার, তাই হবে।’ অন্যদিকে মোদীর সভা থেকে ফেরার পর তাঁর স্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘খুবই ভালো লেগেছে নরেন্দ্র মোদিজির সভায় গিয়ে। তাঁকে কাছ থেকে দেখলাম। ওনাকে দেখতে পাওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার। আমি আসলে নরেন্দ্র মোদিকে দেখতে গিয়েছিলাম।’ একইসঙ্গে শুভেন্দুকে নিয়েও দিব্যেন্দু জায়ার উক্তি, ‘শুভেন্দু অধিকারী তো ভগবান। আমারও ইচ্ছে আছে রাজনীতিতে আসার। এক বাড়ি, এক পরিবার। পরিবার যা করবে, তাই করব।’









