কেরালার রাজনৈতিক মঞ্চে আবারও ফিরল পুরনো ছন্দ—ক্ষমতার হাতবদল। এগজিট পোলের পূর্বাভাসকে সত্যি প্রমাণ করে দশ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। ১৪০ আসনের বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসন পেয়ে ইউডিএফের এই জোরালো প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক ঐতিহ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
সন্ধ্যা ছ’টার হিসেব অনুযায়ী, ইউডিএফ জিতেছে বা এগিয়ে রয়েছে অন্তত ৮৯টি আসনে। অন্যদিকে, সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ থেমে গিয়েছে প্রায় ৩৫ আসনে। এই ফলাফলে স্পষ্ট, ভোটাররা এবার নিরঙ্কুশভাবে পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছেন।


ভোটগণনা শুরুর আগেই পরাজয়ের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন—সকালে নিজের সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইল থেকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয় সরিয়ে দেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে তা নিয়েই শুরু হয় জল্পনা, যা ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বাস্তব রূপ নেয়।
এই নির্বাচনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা—কেরালার মাটিতে প্রথমবারের মতো খাতা খুলল BJP। তিনটি আসনে জয় পেয়ে বিজেপি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইউডিএফের জয়ের নেপথ্যে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কংগ্রেসের অভিজ্ঞ মুখ উম্মেন চণ্ডী, রমেশ চেন্নিথালা এবং ভিডি সাথীসন—এই তিন নামই ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। বিশেষ করে সাথীসনের সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা এই জয়ের অন্যতম ভিত্তি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


সাথীসন নিজেও বলেন, “এই জয়ের আসল কৃতিত্ব কর্মীদের। আমরা যেসব আসনে লড়েছি, তার উল্লেখযোগ্য অংশেই জিতেছি—এটা আগে হয়নি।” তিনি জানান, খুব শীঘ্রই কংগ্রেস হাইকম্যান্ড মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করবে।
অন্যদিকে, এলডিএফের তরফে আত্মসমালোচনার সুর। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক এমভি গোবিন্দন জানিয়েছেন, “পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে। কোথায় ভুল হয়েছে, তা সংশোধন করা হবে।”
কেরালায় বহুদিন ধরেই এলডিএফ ও ইউডিএফের মধ্যে প্রতি পাঁচ বছরে ক্ষমতা বদলের এক অলিখিত রীতি ছিল। তবে ২০১৬ ও ২০২১—দু’বার টানা জিতে সেই রীতির ব্যতিক্রম ঘটিয়েছিল বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ। কোভিড পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা তখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এবার সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে আবারও পুরনো রীতিতেই ফিরল রাজ্য রাজনীতি।
চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেস একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে—৫৬টি আসনে জয় এবং আরও কয়েকটিতে এগিয়ে। শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ পেয়েছে ২২টি আসন। পাশাপাশি কেরালা কংগ্রেস, আরএসপি-সহ অন্যান্য শরিকরাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ইউডিএফের জয়ে।
সব মিলিয়ে, কেরালার ভোট ফল শুধু সরকার পরিবর্তন নয়—এটি রাজ্যের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন। এখন নজর, নতুন সরকার কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে জনমানসে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।







