ক্ষমতার পালাবদলের পরই বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া ভোট–পরবর্তী হিংসার আবহে শান্তির বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী যেমন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চক্র ভাঙার আহ্বান জানালেন, তেমনই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বও নিজেদের কর্মীদের সংযত থাকার স্পষ্ট বার্তা দিল—জয়ের উল্লাস হোক, কিন্তু তা যেন কোনওভাবেই হিংসায় পরিণত না হয়।
সোমবার পার্টি অফিস থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, বাংলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই হিংসার ছায়া রয়েছে, যা এখনই থামানো প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “বদলা নয়, বদল—এই মন্ত্রেই এগোতে হবে। ভোটের বিভাজন ভুলে সবাইকে বাংলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যের সামনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক নতুন সুযোগ এসেছে।


২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসে যে “বদলা নয়, বদল” স্লোগান দিয়েছিলেন, প্রায় পনেরো বছর পর সেই একই বার্তাই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিধ্বনিত হল প্রধানমন্ত্রীর মুখে।
এদিকে, ভোট–পরবর্তী অশান্তির আশঙ্কায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর নির্দেশ, হিংসার ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক রং না দেখে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, “গেরুয়া পতাকা বা দলীয় পরিচয় দেখে ছাড় দেওয়া যাবে না। কেউ আইন ভাঙলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
২০২১ সালের নির্বাচনের পর রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় বহু মানুষ ঘরছাড়া হন এবং একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের ফলাফলের পর নিচুতলায় প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল। তবে শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্টতই সেই পথ থেকে সরে এসে সংযমের বার্তা দিচ্ছে।


সাল্টলেক পার্টি অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক বলেন, “শান্তি বজায় রাখা এখন সবচেয়ে জরুরি। বাংলার গায়ে যে হিংসার দাগ রয়েছে, তা মুছতেই মানুষ আমাদের সমর্থন দিয়েছে। জয় উদযাপন করুন, কিন্তু কোনও উস্কানি বা আক্রমণ নয়।”
অন্যদিকে, তৃণমূল শিবির থেকে উঠেছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। দলের নেতা Firhad Hakim অভিযোগ করেন, বিজেপির জয়ের পরই রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তাঁর দাবি, “বাইক মিছিল করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি কিছু জায়গায় গণনা প্রক্রিয়াতেও বাধা এসেছে। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।”
সব মিলিয়ে, বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক চেনা দ্বন্দ্ব—ক্ষমতার বদলের সঙ্গে কি বদলাবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি? নাকি হিংসার পুরনো ছায়াই রয়ে যাবে? এখন নজর, মাটির স্তরে এই শান্তির বার্তা কতটা বাস্তবায়িত হয়।







