নজরবন্দি ব্যুরোঃ অসংসদীয় শব্দের তালিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। এরই মধ্যে নয়া বিজ্ঞপ্তি ঘিরে সরব হয়েছে বিরোধীরা। নয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে সংসদ চত্বরে করা যাবে না ধর্না। অধিবেশন শুরুর আগে এই নির্দেশে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।
আরও পড়ুনঃ Kolkata Metro: চলতি সপ্তাহে মেট্রোতে দুই বার ঝাঁপ, চরম দুর্ভোগে নিত্যযাত্রীরা


রাজ্যসভার সচিব পিসি মুদির তরফে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। যা স্যোশাল মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং রাজ্যসভার সদস্য জয়রাম রমেশ। যেখানে লেখা রয়েছে, কোনও সদস্য আর সংসদ চত্বরে ধরনা, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, অনশন বা কোনওরকম ধর্মীয় আচার পালন করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে সব সদস্যের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। যা কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা ক্যাপশনে লিখেছেন বিশ্বগুরুর নতুন ফরমান।

উল্লেখ্য, গত কয়েক অধিবেশনে একাধিক ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেছে বিরোধীদের। কখনও সংসদের ভিতরে আবার কখনও সংসদের ভিতর গান্ধী মুর্তির পাদদেশে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন অমস্ত পক্ষেরই সাংসদরা। যা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা শব্দের কন্ঠরোধ করতেই এই পদক্ষেপ? বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এমনিতেই অসংসদীয় শব্দের তালিকা নিয়ে বিতর্কের ঝড় বইছে দেশজুড়ে। তালিকায় রয়েছে ‘লজ্জাজনক’, ‘নির্যাতন’, ‘বিশ্বাসঘাতকতা’, ‘নাটক’, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’, ‘অযোগ্য’ ‘ভণ্ডামি’র মতো শব্দ। তাছাড়াও সংসদের অধিবেশনে ‘নৈরাজ্যবাদী’, ‘শকুনি’, ‘স্বৈরাচারী’, ‘খলিস্তানি’, ‘বিনাশপুরুষ’, ‘জয়চাঁদ’ , ‘তানাশাহি’, ‘দাঙ্গা’, ‘দালাল’, ‘দাদাগিরি’, ‘খুন সে ক্ষেতি’, ‘দোহরা চরিত্র’, ‘জুমলাবাজি’, ‘কোভিড স্প্রেডার’, ‘স্নুপগেট’ প্রভৃতি শব্দের প্রয়োগও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হিন্দির তালিকায় রয়েছে ‘গদ্দার’, ‘গিরগিট’, ‘কালা দিন’, ‘কালা বাজারি’, ‘নিকম্মা’, ‘নৌটঙ্কি’, ‘ঢিণ্ডোরা পিটনা’, ‘বেহরি সরকার’ প্রভৃতি। সাংসদদের বলা হয়েছে নিজেদের বক্তব্যে এই শব্দ ব্যবহার করা যবে না।



পরে অবশ্য লোকসভার স্পিকারের তরফে জানানো হয়েছে, এর আগে অসাংবিধানিক শব্দের বই প্রকাশ করা হত। আমরা কাগজের ব্যবহার বন্ধ করতে আমরা সাইটে তুলে ধরেছি। যে সমস্ত শব্দ গুলিকে সরিইয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর একটা তালিকা আমরা দিয়েছি। বিরোধী পক্ষের উদ্দেশ্যে স্পিকারের প্রশ্ন, বিরোধীরা কী ১১০০ পাতার ডিকশেনরি পড়েছে? যদি পড়ে থাকত তাহলে এভাবে ভ্রান্ত ধারণা ছড়াত না। এটা ১৯৫৪ সাল থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর ১৯৮৬,১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৪, ২০০৯, ২০১০ থেকে এটা প্রতি বছর প্রকাশিত হয়।
সংসদ চত্বরে করা যাবে না ধর্না, জানিয়ে দিলেন রাজ্যসভার সচিব

আগামী ১৮ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগে রাজ্যসভার সচিবের তরফে এই নির্দেশ ঘিরে উত্তাল হতে শুরু করেছে জাতীয় রাজনীতি।







