‘পদ্মশ্রী-টদ্মশ্রী’ বিতর্কে মুখ খুললেন দেব: বুম্বাদার সঙ্গে আমার কিছু হবে না, ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে কথাগুলো

সিনে ক্যালেন্ডার বৈঠক ঘিরে তৈরি হওয়া ‘পদ্মশ্রী’ বিতর্কে মুখ খুললেন দেব। প্রসেনজিত ও জিতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে দিলেন নায়ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

টালিগঞ্জে জল্পনার পারদ চড়তেই দেব জানালেন স্পষ্ট অবস্থান। সিনে ক্যালেন্ডার নির্ধারণের বৈঠক ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবের সঙ্গে মিলছে না বলেই দাবি তাঁর। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে নাকি তাঁর বাকবিতণ্ডা, এমনকি ‘পদ্মশ্রী’ নিয়েও কটাক্ষ—এই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দেব বললেন, উদ্দেশ্য একটাই—বাংলা ছবিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বাকিটা তাঁর কথাকে ভেঙে অন্য ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি নতুন বছরের সিনেমা ক্যালেন্ডার ঠিক করতে IMPPA দফতরে স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক বসে। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি ছিল, সেখানেই Prosenjit ChatterjeeDev-এর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এমনও রটে, প্রসেনজিতের প্রাপ্ত পদ্মশ্রী পুরস্কারকে কটাক্ষ করে ‘পদ্মশ্রী-টদ্মশ্রী’ বলা হয়েছে। যদিও বিতর্কের মধ্যেই দেব সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রসেনজিত ও তাঁর ছেলের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন। পরে একই ছবি শেয়ার করে প্রসেনজিৎ লেখেন আবেগঘন বার্তা—ভুল বোঝাবুঝি সামলানোই বড়দের কাজ।

এই সব জল্পনার মাঝেই শুক্রবার প্রসেনজিতের ছবি বিজয়গড়ের হীরে-র সাকসেস পার্টিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেব বলেন,
“আমাদের মধ্যে কোনও মান-অভিমান ছিল না। আমি বুঝতেই পারছি না কেন বা কীসের জন্য এই সব হচ্ছে। আমি কিছু বললে ইতিহাস তৈরি হয়ে যাবে, কিন্তু আজ ইতিহাস বানাতে চাই না। আজ শুধু একটাই ইতিহাস থাক—বুম্বাদা পদ্মশ্রী পেয়েছেন, আর ‘কাকাবাবু’-র সাকসেস।”

এখানেই থামেননি দেব। Jeet-এর সঙ্গে মনোমালিন্যের গুঞ্জন প্রসঙ্গেও তিনি স্পষ্ট করে দেন,
“কাল রাত বারোটা পর্যন্ত জিৎদার সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি, খাওয়া-দাওয়া করেছি। অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো আমাদের মধ্যেই থাকবে। বুম্বাদার সঙ্গেও কথা হয়েছে, আজ দেখাও হয়েছে। কে কী বলছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।”

বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে দেব ব্যাখ্যা করেন,
“সিনেমার ডেট নিয়ে আলোচনার সময় বুম্বাদা বলেছিলেন, তিনি একটি ছোট ছবি করতে চান এবং পুজোয় আসতে চান। আমি বলেছিলাম—আপনি ৪০ বছর ধরে কাজ করছেন, পদ্মশ্রী পেয়েছেন, তাহলে আবার ডেট চাইছেন কেন? প্রযোজকদের ডেট চাওয়া উচিত। একই কথা জিৎদাকেও বলেছি। আমাদের মতো সিনিয়রদের লাইনে দাঁড়িয়ে ডেট চাইতে হওয়া মানহানির মতো। সেই জায়গা থেকেই কথাটা বলেছিলাম। কিন্তু সেটাকে অন্য ভাবে দেখানো হয়েছে।”

দেবের মতে, কোন ছবি দর্শক দেখবেন, তা ঠিক করবেন দর্শকরাই। আর কোন ছবি হলে চলবে, সেটা হল মালিকদের সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন,
“আমার কথাগুলো যেভাবে ভেঙে দেখানো হচ্ছে, তা খুব কষ্টের। এতে বুঝছি, আগামী দিনে আমার লড়াই আরও শক্ত হবে। কিন্তু আমাদের লড়াই—আমি, বুম্বাদা, জিৎদা—একটাই, বাংলা সিনেমা যেন এগিয়ে যায়।”

‘পদ্মশ্রী-টদ্মশ্রী’ বিতর্ক প্রসঙ্গে দেবের স্পষ্ট বক্তব্য,
“এই ধরনের কথা রটানো সত্যিই দুঃখজনক। বুম্বাদার সঙ্গে এই জন্মে আমার কিছু হবে না। সেটা তাঁর ছেলে-মেয়ে, আমার বাবা-মা সবাই জানেন। যাঁরা এসব চেষ্টা করছেন, তাঁদের শুভেচ্ছা—আরও চেষ্টা চালিয়ে যান।”

সব মিলিয়ে, টালিগঞ্জের অন্দরের এই বিতর্কে দেবের বার্তা পরিষ্কার—ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়, তাঁর লড়াই শুধুই বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত