বঙ্গে ভোট, কবে প্রকাশিত হবে বকেয়া DA-র বিজ্ঞপ্তি? জল্পনার মাঝে সামনে এল আইনি বাস্তবতা

নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হলেও বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে—কারণ সুপ্রিম কোর্ট ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বকেয়া ডিএ। অনেকেরই প্রশ্ন—নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকা অবস্থায় কি আদৌ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা সম্ভব? তবে প্রশাসনিক ও আইনি দিক খতিয়ে দেখলে পরিষ্কার, এই বিষয়ে কর্মীদের আশঙ্কা ততটা বাস্তবসম্মত নয়।

আসলে পুরো বিষয়টির কেন্দ্রে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। দেশের শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে যে চলতি বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি মিটিয়ে দিতে হবে। আদালতের এই সময়সীমা বাধ্যতামূলক হওয়ায় সাধারণ নির্বাচনী আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট সেই প্রক্রিয়ায় আইনি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।

বঙ্গে ভোট, কবে প্রকাশিত হবে বকেয়া DA-র বিজ্ঞপ্তি? জল্পনার মাঝে সামনে এল আইনি বাস্তবতা

বঙ্গে ভোট, কবে প্রকাশিত হবে বকেয়া DA-র বিজ্ঞপ্তি? জল্পনার মাঝে সামনে এল আইনি বাস্তবতা
বঙ্গে ভোট, কবে প্রকাশিত হবে বকেয়া DA-র বিজ্ঞপ্তি? জল্পনার মাঝে সামনে এল আইনি বাস্তবতা

প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতেই অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে আগের কোনো তারিখ উল্লেখ করা হতে পারে। অর্থাৎ নোটিফিকেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পেলেও সেটিতে ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুর কোনো কার্যকর তারিখ উল্লেখ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ডিএ প্রদানের রূপরেখা তৈরি রয়েছে। ফলে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেলেই বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

অর্থ দপ্তরের সম্ভাব্য নির্দেশিকায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকার কথা। প্রথমত, বকেয়া অর্থ সরাসরি সরকারি কর্মীদের বেতন অ্যাকাউন্টে জমা হবে, নাকি প্রভিডেন্ট ফান্ড বা জিপিএফ অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে—সেই পদ্ধতি জানানো হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও কীভাবে টাকা পৌঁছবে, তার বিস্তারিত নির্দেশিকা থাকবে। সাধারণত এই ধরনের অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে।

তৃতীয়ত, প্রথম কিস্তিতে বকেয়া টাকার কত শতাংশ দেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট অংশ কবে মেটানো হবে, তার একটি নির্দিষ্ট সময়সূচিও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকতে পারে।

এছাড়াও যেসব কর্মী বা পেনশনভোগী ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বৈধ উত্তরাধিকারীরা কীভাবে বকেয়া অর্থ দাবি করবেন, সেই সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হতে পারে।

সব মিলিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভোট ঘোষণা হয়ে গেলেও বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বড় কোনো প্রযুক্তিগত বাধা নেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই প্রক্রিয়া এগোনোর পথই এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাই সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের আপাতত অর্থ দপ্তরের সরকারি ঘোষণার দিকেই নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর