পুরসভা জুড়ে কোভিড জাল, কিভাবে চলবে পরিষেবা? চিন্তায় কর্তারা

পুরসভা জুড়ে কোভিড জাল, কিভাবে চলবে পরিষেবা? চিন্তায় কর্তারা
পুরসভা জুড়ে কোভিড জাল, কিভাবে চলবে পরিষেবা? চিন্তায় কর্তারা

নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি যে ভালো নয় সেই কথাটা আর কারো কাছে অজানা নয়। রাজ্যের সব জেলার চেয়ে মহানগর কলকাতার অবস্থা আরো বেশি খারাপ সেটার প্রমাণ মিলছে বারবার। রাজ্যের মোট আক্রান্তের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই কলকাতার। আর এই কথার প্রমাণ মিলছে কলকাতা পুরসভার ছবিতেই।

আরও পড়ুনঃ করোনায় কাঁপছে টলিউড, এবার আক্রান্ত ঋতুপর্ণা ও ঋদ্ধি সেন

কারণ কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং জরুরি একটি বিভাগ। কিন্তু এই বিভাগে এখন কোন অধিকারই নেই। এর কারণ করোনা। স্বাস্থ্যবিভাগের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক থেকে শুরু করে প্রায় সব আধিকারীক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছারাও ৩৩ জন মেডিকেল অফিসার সহ ল্যাব টেকনিশিয়ান ও সাধারণ কর্মী করোনা আক্রান্ত। কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী শুধু স্বাস্থ্য বিভাগেই আক্রান্তের সংখ্যা দু’শোর বেশি। প্রায় একই অবস্থা পুরসভার জন্ম শংসাপত্র বিভাগেও।

এখানে তো কর্মীর অভাবে পরিষেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন পুরসভা কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও এই মুহূর্তে সবচেয়ে এমার্জেন্সি যে বিভাগ সেটি হল কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন বোরোর টিকাকরণ কেন্দ্র। সূত্রের খবর, সেখানেও কর্মীরা আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন অনেকেই, ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন টিকা করণে প্রভাব পড়বে। সব মিলিয়ে কলকাতা পুরসভার বেশিরভাগ বিভাগেই করোনা আক্রান্ত হয়ে অনুপস্থিত অফিসার থেকে সাধারণ কর্মীরা।

পুরসভা জুড়ে কোভিড জাল, কিভাবে চলবে পরিষেবা? চিন্তায় কর্তারা
পুরসভা জুড়ে কোভিড জাল, কিভাবে চলবে পরিষেবা? চিন্তায় কর্তারা

কোন বিভাগে কতজন আক্রান্ত তার একটা লিস্ট পেয়েছে সংবাদমাধ্যম। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সিভিল বিভাগে ৪ জন ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে ৩ জন আক্রান্ত। ১৬ জন বরো এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে ৭ জন আক্রান্ত, ৩০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আক্রান্ত। উদ্যান বিভাগে ৭ জন ইঞ্জিনিয়ার, ২২ জন উদ্যানের মালি, ৫৬ জন কর্মী এবং আধিকারিক করোনা আক্রান্ত।

পুরসভা জুড়ে কোভিড জাল, কিভাবে চলবে পরিষেবা? চিন্তায় কর্তারা

পরিবেশ বিভাগে ৭ জনের মধ্যে ৩ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আক্রান্ত। আক্রান্ত ১৫ জন কর্মীও। জঞ্জাল ব্যবস্থাপনা বিভাগে ২৪৫ জন কর্মী এবং আধিকারিক আক্রান্ত। স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মী এবং আধিকারিক মিলিয়ে মোট ২১০ জন আক্রান্ত। ফলে আগামী দিনে এই সংক্রমণ আরও যদি বেড়ে যায় তাহলে পুরসভার পরিষেবা কি করে চলবে তা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ কর্তাদের।