নজরবন্দি ব্যুরোঃ দীর্ঘ ১০ বছর পর কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের মামলার রায় ঘোষণা করল কলকাতা হাইকোর্ট। দোষী সাব্যস্ত আনসার আলি মোল্লা ও সইফুল আলিকে ফাঁসির সাজার পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ। ফাঁসির সাজা হয়েছিল অভিযুক্ত আমিন আলিরও। তিনি বেকসুর রেহাই পেলেন। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন জেলের সাজাপ্রাপ্ত বেকসুর রেহাই ইমানুল হক, ভোলানাথ নস্কর ও আমিনুর ইসলামের। রায় দিল বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ।
আরও পড়ুনঃ তিস্তা কিছুটা শান্ত, তবে ভেসে আসছে দেহের পর দেহ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৭ই জুন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে কলেজ ফেরত এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনা নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা রাজ্য। প্রাথমিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হন ৯ জন। ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি ব্যাঙ্কশাল কোর্ট ৬ জনের শাস্তি ঘোষণা করে।

যাদের মধ্যে আনসার আলি মোল্লা ও সইফুল আলি আমিন আলিকে ফাঁসির সাজা দেন বিচারক সঞ্চিতা সরকার। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ইমানুল হক, ভোলানাথ নস্কর ও আমিনুর ইসলামকে যাবজ্জীবন জেলের সসাজা দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন গোপাল নস্কর নামে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। প্রমাণের অভাবে মুক্তি দেওয়া হয় অন্য দুই অভিযুক্ত রফিক গাজি এবং নুর আলিকে। সেই রায়কে চ্যালঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত ৬ জন।

কামদুনিকাণ্ডের রায় ঘোষণা হাইকোর্টের, অপরাধীদের কী শাস্তি দিল আদালত?
ধর্ষিতার বান্ধবী টুম্পা কয়াল এই কাণ্ডে বারংবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেও তিনি এসে তিনি শাস্তির দাবি জানান। আজ কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ে একদমই খুশি নন টুম্পা কয়াল। তাঁর বক্তব্য, “আমরা যোগ্য বিচার পেলাম না। আমরা এই রায়ে খুশি নই। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছিলাম আমরা।” আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টে যাবার কথা ভাবছেন কামদুনির প্রতিবাদী জনতা।




