নীতিগত অবস্থান থেকে ঘরে ঘরে বিনামূল্যে প্রতিষেধক। ভাবাচ্ছে বাংলার কোষাগার।

নীতিগত অবস্থান থেকে ঘরে ঘরে বিনামূল্যে প্রতিষেধক। ভাবাচ্ছে বাংলার কোষাগার।

নজরবন্দি ব্যুরো: নীতিগত অবস্থান থেকে ঘরে ঘরে বিনামূল্যে প্রতিষেধক। ভাবাচ্ছে বাংলার কোষাগার। বাংলার মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয় বারের জন্য লড়াইয়ে নামবেন। লক্ষ্য বাংলার মসনদ। ময়দানে যাওয়ার আগে মানুষের ঘরে পৌঁছতে চেয়েছিলেন তিনি। আর সেই মতোই অবিশ্বাস্য ভাবে মাত্র দেড় মাসেই ২ কোটি মানুষের ঘরে ‘ দুয়ার সরকার ‘ প্রকল্প নিয়ে পৌঁছে গেছে মমতা সরকার। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপশি উচ্ছ্বসিত খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার নিজের নীতির বিচারে সকল রাজ্যবাসীকে নিখরচায় করোনা প্রতিষেধক পৌঁছে দিতে চান তিনি।

আরও পড়ুনঃ ৩ কিমি রাস্তা ফেরানো জন্য ৩৮০ জনের সাক্ষর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদনপত্র দিল বিশ্বভারতী।

বছর ঘুরিয়ে বাজারে আসছে করোনার টিকা। তাতে সামনের সারিতে থাকা কোভিড যোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি সকলকে দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা চিঠি পৌঁছেছে। বাঁকুড়া,পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ,দুই মেদিনীপুর,দুই চব্বিশ পরগনা,পশ্চিম বর্ধমান এর মত কয়েকটি জেলায় জেলার পুলিশ এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের হতে পৌঁছেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি। সেগুলি সকলের মধ্যে বন্টন করছেন জেলা কর্তারা।

সেই চিঠিতে মাননীয়া কোভিড যোদ্ধাদের কুর্নিশ জানিয়েছেন। নিজেদের জীবন বাজি রেখে যাঁরা এতদিন ধরে কভিড রুগীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন প্রথম পর্যায়ে বাংলার সেই সব স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছেই পৌঁছে দেওয়া হবে প্রতিষেধক। চিঠির এক অংশে তিনি এও লিখেছেন ‘ আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, আমাদের সরকার রাজ্যের মানুষের কাছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।’ নবান্ন জানাচ্ছে অনেকদিন আগেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্যসরকার, আর তার ভিত্তিতেই মুখ্যমন্ত্রীর লেটার হেডে লেখা হয়েছে চিঠিটি।

ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিন্তে ভোট ব্যাংকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে অনেকেই এও মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রীর এই নীতিগত সিদ্ধান্ত ব্যাপক চাপ ফেলবে রাজ্যের কোষাগারের ওপর। হিসেব বলছে রাজ্যের লোকসংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। সেখানে সক্কলকে নিখরচায় টিকা দিতে গেলে কমবেশি প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হবে। রাজ্য কোষাগার কি এই মুহূর্তে এই বিশাল ব্যায় ভার বইতে পারবে? উঠছে সেই প্রশ্নও।

আধিকারিকদের এক অংশের বক্তব্য এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার যদি এরূপ মানবিক সিদ্ধান্ত নেয়,তাতে মানুষের সুরাহা হবে । এমনিতেই গোটা অর্থবর্ষ রাজ্য সরকার খরচ বাঁচানোর পথেই হেঁটেছে। রাজ্যের এক কর্তার কথায় কেন্দ্রের থেকে পরিমাণ মতো সাহায্য রাজ্য পায়নি,উল্টে কেন্দ্রের কাছে এখনো টাকা পায় রাজ্য। এসবের মাঝে যখন রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন তা নিশ্চয় ইতিবাচক হবে এবং রাজ্যসরকার সবকিছু ভেবেই নিয়েছে এই সিদ্ধান্ত। এমনিতেই একদল পর্যবেক্ষক কিছু উপায় ও বের করেছেন। যেমন একসাথে তো একই দিনে সকলকে দেওয়া হবে না টিকা।

সময় করে স্তরে স্তরে ভাগ করে দেওয়া হবে। প্রথমে পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্তাদের দেওয়া হবে এই টিকা, সারিতে অপেক্ষা না করে একটা পরিমাণ মানুষ হয়তো নিজেদের উদ্যোগেই নিয়ে নেবেন টিকা। আর স্তরে স্তরে টিকা প্রয়োগে সরকারের ওপর একসাথে চাপ পড়বে না। রাজ্যের মানুষের কথা ভেবে মূখ্যমন্ত্রী এবং বাংলার রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ ইতিবাচক দিক দেখাচ্ছে মানুষের মনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x